পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক 8&S ওরা চলে গেল। আমাদের সাহস বিঠল ভকৎ অনেকটা বাড়িয়ে দিয়ে গেল সন্দেহ নেই। আমরা দুজনেই তখন এগিয়ে চলেচি ডানদিক ঘেঁষে। জঙ্গলের মধ্যে জ্যোৎস্নার আলোছায়ার জাল ক্রমশ খুব স্পষ্ট হয়ে উঠলো। নিস্তব্ধ বিজন অরণ্যানী আমাদের চারিদিকে বিস্তৃত, নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে কতদূর এসে পড়েচি, কোথায় যেন চলেচি—এ কথা ভাবতে আমার এত আনন্দ হচ্ছিল, নৈশ পার্থীর আওয়াজ—আর বনের মধ্যে কোথাও বনশিউলি ফুটেচে, তার গন্ধ সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েচে । মাঝে মাঝে গন্ধটা খুব ঘন, এক এক জায়গায় বড় পাতলা হয়ে যায়, এক এক জায়গায় থাকেই না—কিন্তু একেবারে কল্পনোই ষায় না । বন ক্রমশ কমে আসচে বোঝা গেল। আর আধঘণ্টা জোর হাটবার পরে বন ছাড়িয়ে আমরা ফাক মাঠের মধ্যে পড়লাম। কিন্তু কোনোদিকে একটা বস্তি নেই। মাঠে শুধু শাল আর মউল গাছ দূরে দূরে, জ্যোৎস্নার আলোতে এই দীর্ঘ অজানা প্রান্তর যেন আমাদের কাছে দক্ষিণ আমেরিকার পাম্পায় তৃণভূমি—আকাশের নেশা, পথহীন পথের নেশা, অজানার উদ্দেশে ক্লাস্তিহীন যাত্রার নেশা । অথচ কতটুকুই বা যাবো! আমরা উত্তরমেরু আবিষ্কার করতে যাইনি, যাচ্ছি তো ভাগলপুর থেকে দেওঘর, বড়জোর একশো পচিশ কি ত্রিশ মাইল। কিংবা হয়তো তারও কম! আসল কথা, মনের আনন্দই মানুষের জীবনের অস্তিত্বের সব চেয়ে বড় মাপকাঠি। আমি দশ মাইল গিয়ে যে আনন্দ পেলুম, তুমি যদি হাজার মাইল গিয়ে সেই আনন্দ পেয়ে থাকে৷ তৰে তুমি-আমি দুজনেই সমান। দশ মাইলে আর হাজার মাইলে পার্থক্য নেই। তবে ঘরকে একেবারে মন থেকে তাড়াতে হয়। ঘর মনে থাকলে পথ ধরা দেয় না । ঘর ছুদিনের বন্ধন, পথ চিরকালের । জয়পুর ডাক-বাংলোয় পৌছে গেলুম আরও প্রায় একঘণ্টা হেঁটে। এখানে চৌকিদারকে ডেকে বললুম—বাপু, রঘুনাথ পাটােয়ারী কোথায় থাকে, তার হাতে এই চিঠিখানা দিয়ে এসো-তো । চিঠিখানা লছমীপুরের দেওয়ান দিয়েছিলেন পাটােয়ারীর কাছে আমাদের সম্বন্ধুে। চৌকিদার চলে যাওয়ার কিছু পরেই দেখি চার-পাচজন লাঠি হাতে লোক সঙ্গে করে জনৈক পাগড়িবাধা, মেরজাইঙ্গাটা বৃদ্ধ এদিকেই আসচে। কাছে এসে লোকটি একট লম্বা সেলাম দিয়ে সামনে দাড়ালো। তারই নাম রঘুনাথ, বাবুর স্বচ্ছদে থাকুন ডাকবাংলোয়, সে এখুনি খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ডাকবাংলোতে রাত্রে পাহারার জন্ত লোক এনেচে সঙ্গে । —পাহারার লোক কেন ? —বাবুলাহেব, এই ডাকবাংলো জঙ্গলের ধারে মাঠের মধ্যে। লোকজন নেই কাছে— এখানে প্রায়ই ডাকাতি হয়। এক মাড়োঁয়ারী শেঠ এখানে ছিল সেবছর, তাকে মেরেখরে छेकांकफ़ि मिटङ्ग यांब्र । छांब्रश्नों खां८णां मां । —আমাদের সে ভয় নেই পাটোয়ামীজী—সঙ্গে কিছু নেই ৰে নেবে। তবে লোক থাকে