পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


86.8 বিভূতি-রচনাবলী চোখ রেখে অনেকক্ষণ বসে আপনমনে কাটানো যায়, বই পড়া যায়-বড় মুন্দর নিভৃত শিলাসন। আশেপাশে নিকটে দূরে অনেকগুলো পলাশবৃক্ষ। রাঙা পিছরের মতো মাটি, কাকরের ডাঙ, ছবির মতো একটি ঝরনা ত্রিকূট থেকে বেরিয়ে গ্রামের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে চলেচে সেই নাবাল জমিটার পশ্চিমপ্রান্ত ঘেষে। ছবিকে সর্বাঙ্গমুন্দর করবার জন্তেই যেন গ্রামের মধ্যে কয়েকবাড় কাটা-বাশ রাঙা-মটির ডাঙার ওপর সাজানো। অম্বিকাকে বললুম-চেয়ে দেখ গ্রামখানার রূপ। এখানটা বাস করার উপযুক্ত স্থান। আমার যদি কখনো সুবিধে হয়, ঠিক এই মহিষারডি গ্রামে এসে বাস করবো । অম্বিকাও বললে—সত্যি, এটা একটা বিউটি স্পট। যদি এত দূর আর এমন বেখাপ্পা জায়গায় না হত—আমিও এখানে বাস করতুম। আমি ভেবে দেখলুম, রেল থেকে এই দূরত্বই (অন্তত বত্ৰিশ মাইল) ওকে আরও সৌন্দর্য দান করেচে। রেলস্টেশনের কাছে হলে এ গ্রাম যেন সাধারণের উচ্ছিষ্ট হয়ে পড়তো—এ এখন রূপসী,সরলা বস্তুবালা-শুভ্র ও অপাপবিদ্ধ। এই দিশাহীন রাঙামাটির যুক্ত প্রান্তর, অদূরের ওই শৈলচুড়, হাতীর মতো বড় বড় পাথরের আসনগুলো—নাবাল জমিটার ও ঝরনাটার সৌন্দর্য এ গ্রামকে অদ্ভুত ঐ দান করেচে—অথচ এখানে কলকাতার কোনো লোক এখনও বাড়ি করেনি—কোনদিন করবেও না—এ গ্রাম এমনি জনবিরল, নিস্তন্ধ ও শাস্ত বনগ্রাস্তরের মধ্যে চিরদিন নিজের সৌন্দর্য অটুট রেখে চলবে—একথা ভেবেও মনে আনন্দ পেলুম। 2 এই চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে মনে একটা গুপ্ত-বাসনা অবিশুিই থাকে—যদি কখনো স্ববিধে হয় তবে এখানে বাড়ি করবো । —জমির এখানে কি দাম হরবংশ ? —জমির দাম ? কি করবেন বাবুসাহেব ? —ধরে যদি বাস করি ? হরবংশ আনন্দে উৎফুন্ন হয়ে বললে—বাস করুন না, জমি কিনতে হবে না বাবুজি। ওই মোড়ের ধারে ভালো জমি আমার নিজের অাছে—আপনাকে দিচ্চি। আমুন না ! যেখানে আপনাদের পছন্দ হবে গারের মধ্যে জমি নিন। পনেরো কুড়ি টাকা বিঘে দূরে জমি বিক্ৰী হয়। ওই রাঙা মাটির বড় ডাঙাট নিন না ! বাসের পক্ষে চমৎকার জায়গা। ওটা বাইশ বিঘের ডাঙা-আমি গ্রামের প্রধানকে বলে সস্তায় করে দেবো। দশটাকা বিঘে দরে ডাঙাটা আমি আপনাকে করে দিতে পারি। পড়েই তো রয়েচে আমার জন্ম থেকে। দশটাকা বিঘে পেলে রতে যাবে। 嶺 মহিষারডি থেকে পরদিন সকালে বেরিয়ে পড়লুম যাবার সময় বার বার মনে করলুম, যদি কখনো সুবিধে হয়, আর একবার এই মুনার গ্রামখানিতে ফিরে আসবো। অবিপ্তি এখনও পর্যন্ত লে কল্পনা কার্যে পরিণত হয়নি-কিন্তু