পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ર૭ তৃতীয় পণ্ডিত বলিলেন, পড়বে না, বাঃ! হীরের টুকরো ছেলে, স্কুলের নাম রেখেছে। ওরা যদি না পড়ে তো পড়বে কে, কেষ্ট ভেলির বেটা গোবর্ধন ? কিছু না, আপনি ইন্সপ্রেক্টর অফিসে লিখে দিন যে, ও হাই স্কুলে পড়বে। ওর আবার জিজ্ঞেসটা কি ?—ও, সোজা পরিশ্রম করিচি মশাই ওকে ভগ্নাংশটা শেখাতে ? প্রথমটা অপু যেন ভাল করিয়া কথাটা বুঝিতে পারিল না। পরে যখন বুঝিল তখন তাহার মুখে কথা যোগাইল না। হেডমাস্টার একখানা কাগজ বাহির করিয়া তাহার সামনে ধরিয়া বলিলেন—এইখানে একটা নাম সই ক'রে দাও তো। আমি কিন্তু লিখে দিলাম যে, তুমি হাইস্কুলে পড়বে। আজই ইন্সপেক্টর আফিসে পাঠিয়ে দেবো। সকাল সকাল ছুটি লইয়া বাড়ি ফিরিবার পথে মায়ের করুণ মুখচ্ছবি বার বার তাহার মনে আসিতে লাগিল। পথের পাশে দুপুরের রৌদ্রভরা শু্যামল মাঠ, প্রাচীন তুত বটগাছের ছায়া, ঘন শালপত্রের অন্তরালে ঘুঘুর উদাস কণ্ঠ, সব যেন করুণ হইয়া উঠিল। তাহার মনে এই অপূর্ব করুশ ভাবটি বড় গভীর ছাপ রাখিয়া গিয়াছিল। আজিকার দুপুরটির কথা উত্তর জীবনে বড় মনে আসিত তাহান। কত—কতদিন পরে আবার এই হামচ্ছায়াভরা বীথি, বাল্যের অপরূপ জীবনানন্দ, ঘুঘুর ডাক, মায়ের মনের একদিনের দুঃখাট—অনন্তের মণিহারে গাঁথা দানাগুলির একটি, পশ্চিম দিগন্তে প্রতি সন্ধ্যায় ছিড়িয়া-পড়া, বহুবিস্মৃত মুক্তাবলীর মধ্যে কেমন করিয়া অক্ষয় হইয়া ছিল। বাড়িতে তাহার মাও আজ সারাদিন খায় নাই। ভাত চাহিয়া না পাইয়া ছেলে না খাইয়াই চলিয়া গিয়াছে স্কুলে—সর্বজয়া কি করিয়া খাবারের কাছে বসে ? কুলুইচণ্ডীর ফলার খাইয়া অপু বৈকালে বেড়াইতে গেল । গ্রামের বাহিরে ধঞ্চেক্ষেতের ফসল কাটিয়া লওয়া হইয়াছে। চারি ধারে খোলা মাঠ পড়িয়া আছে। আবার সেই সব রঙীন কল্পনা ; সে পরীক্ষায় বৃত্তি পাইয়াছে। তার স্বপ্নের অতীত ! মোটে এক বছস পড়িয়াই বৃত্তি পাইল।.সুমুখের জীবনের কত ছবিই আবার মনে আসে। ঐ মাঠের পারে রক্ত আকাশটার মত রহস্তস্বল্পভরা যে অজানা অকুল জীবন-মহাসমুদ্র ...পুলকে সারালেহ শিহরিয়া উঠে। মাকে এখনও সব কথা বলা হয় নাই। মায়ের মনের-বেদনার রঙে ধেন মাঠ, ঘাট, অস্তদিগন্তের মেঘমালা রাঙানো । গভীর ছারাভরা সন্ধ্যা মায়ের দুঃখভরা মনটার মত ঘুলি-ঘুলি অন্ধকার। দালানের পাশের ঘরে মিটি মিটি প্রদীপ জলিতেছে। সর্বজয়ী রান্নাঘরের দাওয়ায় ছেলেকে ওবেলার কুলুইচতীব্রতের চিড়ে-মুড়কির ফলার থাইতে দিল। নিকটে বলির চাপাকলার খোসা ছাড়াইয়া দিতে দিতে বলিল, ওরা কত দুঃখ করলে আজ। সরকার-বাড়ি থেকে বলে গেল তুই পূজো করবি—তারা খুজতে এলে আমি বললাম, সে স্কুলে চলে গিয়েছে। তখন তারা আবার ভৈরব চক্ষত্তিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই অত বেলায়—তুই দি যেত্তিস্থ- _. —আজি না গিয়ে ভাল করিচি মা ! আজি হেডমাস্টার বলেচে আমি এগ জামিনে