পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক 8Ꮂ☾ পাওয়া যাবে না হয়তো। মনে পড়ল বিলাসপুর থেকেও তো নিতে পারতুম। অগত্যা গরম দুধ খেয়ে চায়ের পিপাসা দূর করতে হল। ছেলেটি দুধ জল দিয়ে দিলে । ফুধ এক সেরের কম নয় ; আমি ওকে বললুম—কত দাম দেবো ? সে বললে, প্রধান বলে দিয়েচে বাবু-সাহেবের কাছে দুধের দাম নিবিনে । —তোর দুধ ? —ই বাবুজি, আমাদের বাড়ির দুধ। মা দিয়েচে । —তোর জল-খাবার বলে দিচ্চি—দুধের দাম না হয় না নিবি ! —ন বাকুসাহেব, পয়সা আমি নিতে পারবো না । —আমি তোকে বকশিশ দিতে পারিনে ? —না বাবু, আমরা বকশিশ নিইনে। আমরা মাহাতে, গোয়ালা—দুধই বেচি । না, একে দেখচি কিছু বোঝানো যাবে না । ভিজতে ভিজতেই ছোকরা চলে গেল । দুপুরের আগে সে-ই আবার এল কিছু চাল ও টেড়শ নিয়ে। মুন তেল কাল রাত্রের দরুন কিছু অবশিষ্ট ছিল। ওর সাহায্য নিয়ে ভাত ও টেড়শ-ভাতে রান্না করলুম—দুধ ছিল আধ সেরের ওপর, সেটা আর একবার গরম করে নিলাম। খাওয়া শেষ হল ; ছোকরাকেও খেতে বললুম, সে আপত্তি করলে। বেলা দুটোর সময় আকাশ বেশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠলো। গ্রামের লোক দেখা করতে এল ওদের চাল-ডালের দাম দিতে গেলে কিছুতেই নিলে না। মণ্ডপঘরে যারা আশ্রয় নেয়, তারা গ্রামের অতিথি । প্রধানেরা এ সব ব্যবস্থা করে, গ্রাম-ভাটি থেকে এর খরচ হওয়ার প্রথা এদেশে বহু প্রাচীন। আমি বললুম—বেশ, গ্রাম ভাটিতে কিছু চাদ দিতে কোনো আপত্তি হতে পারে কি ? —না বাবু সাহেব, অতিথির কাছ থেকে কিছু নেওয়া নিয়ম নেই। সত্যিকার ভারতবর্ষকে চিনতে হলে এ ধরনের গ্রামের, অরণ্যে, পাহাড়-পর্বতে, নানা শ্রেণীর লোকের সঙ্গে মিশে পায়ে হেঁটে বেড়াতে হয় । ট্রেনের ফাস্ট ক্লাসে বেড়ালে আর যাকেই চেনা যাক, চীরবাসা ভৈরবী ভারত-মাতাকে চেনা যায় না । বেলা দুটোর পরে ওরা একটা ঘোড়া ভাড়া করে দিলে। ঘোড়ার সহিসই আমার জিনিলপত্র নিয়ে ঘোড়ার সঙ্গে যাবে ঠিক হল। দারকেশা পর্যন্ত ঘোড়ার ভাড়া ও সহিসের মজুরি ধার্য হল পাচ টাকা। আমি রওনা হয়ে পথে বেরিয়েচি–মাইল দুই এসে দেখি দুজন লোক আসচে, একটা ছোট টাট,ঘোড়ায় চড়ে একজন, ঘোড়ার পেছনে পেছনে আর একজন। আমাকে দেখে ওরা দাড়িয়ে গেল। আমিও ঘোড়া খামালুম। --ভোমরা কোথায় যাচ্চ ? ' ' —কার্গি রোড স্টেশনে। প্রতাপবাবু পাঠিয়েচেন। বাবুজি কি কলকাতা থেকে আসচেন ? আপনার নাম ? هم سس-s به f t