পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8Գe বিভূতি-রচনাবলী —ওকথাটা তাহলে— -হ্যা হ্যা, সে আমার মনে রইল। বিশেষ চেষ্টা করবে। জানবেন। বন্ধুর পথের বাকে আমার ঘোড়া ও লোকজন অদৃপ্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ভদ্রলোক চোরমুখ বস্তির শেষপ্রান্তে একটা গাছের তলায় দাড়িয়ে ছিলেন, পিছন ফিরে দু একবার রুমালও উড়িয়েচি । ফিরবার সময় এপথে ফিরিনি, ভদ্রলোকের সঙ্গে আর দেখাও হয়নি। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করি, দেশে ফিরে ভদ্রলোকের বিবাহের জন্ত আমি দু-তিন জায়গায় মেয়ে সন্ধান করেছিলুম—আমার স্বগ্রামস্থ এক প্রতিবেশীর বিবাহযোগ্য কন্যা ছিল, তাদের কাছেও কথা পেড়েছিলুম। ভদ্রলোকের ঠিকানা দিয়ে পত্র ব্যবহার করবার অনুরোধও করি। কিন্তু যে ক-টি পাত্রীর সন্ধান করেছিলুম, তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কেউই অত দুর বলে জঙ্গলের দেশে মেয়ের বিবাহ দিতে রাজি হননি । আমার স্বগ্রামের পাত্ৰীটির বাপ একরকম রাজি হরেছিলেন কারণ র্তার অবস্থা তত ভালো ছিল না, কিন্তু মেয়ের মা ভয়ানক আপত্তি তোলেন। আমার ডাকিয়ে বললেন, অমন সীতা-নির্বাসনে কে মেয়ে দেবে বাপু ? আমার মেয়ে তো ফেলুনা নয়, সেখানে গিয়ে কথা বলবার লোক পাবে না, স্থাপিয়ে উঠবে। যাক সে কথা। চোরামুখ ছাড়িয়ে বেলা দশটার সময় আমরা পৌছে গেলুম সালকোণ্ড৷ বলে একটা ছোট গায়ে। রাস্তার ধারেই একটা চুনের ভাটি আছে, আশেপাশে অনেকগুলো বড় ছোট চুনের ভঁটি। এখানে অনেকগুলি গোড় কুলি কাজ করে, তাদের জন্ত বড় বড় কুলি ধাওড়া খান পাঁচ ছয় ভাটির আশেপাশে ছড়ানো। জায়গাটার দৃপ্ত বেশ ভালো লাগলে আমার কাছে। চারিধারে বড় বড় শাল ও ভেলা গাছ, মাঝে মাঝে ধাতুপ ফুলের ঝোপমতে গাছ—একদিকে তো ধাতুপ ফুলেরই বেড়া। শাল গাছের ফাক দিয়ে একটা পুকুর দেখা যাচ্চে কিছু দূরে। দুর ও নিকটে শৈলশ্রেণী, প্রকৃতপক্ষে স্থানটির চারিধার ঘিরেই শৈলমালা, মধ্যে যেন একটি বড় উপত্যক। এই অঞ্চলের সব বন পাহাড় ও গ্রাম ‘ছত্তিশগড়ি পরগনার মধ্যে পড়ে। পূর্বে এই দিকের সব স্থান মারহট্ট সাম্রাজ্যের অন্তভুক্ত ছিল, এখনও অনেক ছত্তিশগড়ি মারহাট্ট পরিবার এই সব গ্রামের অধিবাসী। তবে স্থানীয় আদিম অধিবাসী গোড়দের সংমিশ্রণে এদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক জায়গায় উভয় জাতির আচার ব্যবহার উভয়ের মধ্যে বিস্তৃতি-লাভ করেচে, বিশেষ করে এই সব দুর্গম বন্ত-অঞ্চলে। চুনের ভাটর গদিতে বসে কাজ করচেন জনৈক মারাঠী ভদ্রলোক। তার চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ, মাথার মুরাঠা সবই আমার চোখে অভূত লাগলো। আমি তার দিকে চেয়ে আছি দেখে তিনি উঠে এলেন আমার কাছে। হিন্দীতে বললেন—আপনি কোথা থেকে আসচেন ? আমি পরিচয় দিতে তিনি যথেষ্ট বিনয়ের সঙ্গে বললেন—আসুন, অামার গদিতে একটু বম্বন।