পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত WX} বিপক্ষের গুপ্তচরকে চুরি করিতে দিল যে, তাহাকে এসব কার্যে নিযুক্ত করিলে রুশীয় সম্রাটকে পতনের অপেক্ষায় ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিদ্রোহের মুখ চাহিয়া বসিয়া থাকিতে হইত না । বেলা প্রায় পড়িয়া আসিয়াছে। বোর্ডিং-এর পিছ দেওয়ানী আদালতের কম্পাউণ্ডে অর্থী-প্রতার্থীর ভিড় কমিয়া গিয়াছে। দেবব্রত জানলার দিকে চাহিয়া বলিল, ক্লকটাওয়ারের ঘড়িতে ক'টা বেজেচে দেখুন না একবার? কাউকে বলবেন না অপূর্বদা, আমি এখুনি বাড়ি যাবো। অপু বিস্ময়ের মুরে বলিল, এখন যাবে কিসে? এই যে বললে ট্রেন নেই ? cবব্রত মুর নিচু করিয়া বলিল—এগারো মাইল তে রাস্তা মোটে, হেঁটে যাবে, একটু রাত ঘদি হ’য়ে পড়ে জ্যোৎস্না আছে, বেশ যাওয়া যাবে। * —এগারো মাইল রাস্ত এখন এই পড়ন্ত মেলায় হেটে যেতে যেতে কত রাত হবে জানো ? রাস্ত কখনো হেঁটেচো তুমি ? তা ছাড়া না বলে যাওয়া—যদি কেউ টের পায় ? কিন্তু দেবব্রতকে নিবৃত্ত করা গেল না । সে কখনও রাস্ত হাটে নাই তাহা ঠিক, রাত্রি হইবে তাহা ঠিক, বিধুবাবুর কানে কথাটা উঠিলে বিপদ আছে, সবই ঠিক, কিন্তু বাড়ি সে যাইবেই—সে কিছুতেই থাকিতে পারিবে না—াহ ঘটে ঘটবে। অবশেষে অপু বলিল, তা হ’লে আমিও তোমার সঙ্গে যাই । দেবব্রত বলিল, তা হ’লে সবাই টের পেয়ে যাবে, আপনি তিন-চার মাস বোর্ডিং ছেড়ে কোথাও যান নি, খাবার-ঘরে না দেখতে পেলে সবাই জানতে পারবে । দেবব্রত চলিয়া গেলে অপু কাহারও নিকট সে কথা বলিল না বটে, কিন্তু পরদিন সকালে খাওয়ার-ঘরে দেখা গেল দেবব্রতের অনুপস্থিতি অনেকে লক্ষ্য করিয়াছে। রবিবার বৈকালে সমীর আসিলে তাহাকে সে কথাটা বলিল। পরদিন সোমবার দেবব্রত সকলের সম্মুখে কি করিয়া বোর্ডিং-এর কম্পাউণ্ডে ঢুকিবে বা ধরা পড়িলে কৃতকার্যের কি কৈফিয়ৎ দিবে এই লইয়াই দু’জনে অনেক রাত পর্যন্ত আলোচনা করিল। কিন্তু সকালে উঠিয়া দেবব্রতকে সমীরের বিছানায় শুইয়া ঘুমাইতে দেখিয় সে দস্তুরমত অবাক হইয়া গেল। সমীর বাহিরে মুখ ধুইতে গিয়াছিল, আপিলে জানা গেল যে, কাল অনেক রাত্রে দেবব্রত আসিয়া জানালায় শব্দ করিতে থাকে। পাছে কেউ টের পায় এজন্ত পিছনের জানালার খোলা-গরাদেটা তুলিয়া সমীর তাহাকে ঘরে ঢুকাইয়া লইয়াছে। অপু আগ্রহের সঙ্গে গল্প শুনিতে বসিল । কখন সে বাড়ি পৌছিল । রাত কত হইয়াছিল, তাহার মা তখন কি করিতেছিলেন ?—ইত্যাদি। স্নাত অনেক হইয়াছিল। বাড়িতে রাতের খাওয়া প্রায় শেষ হয় হয়। তাহার মা ছোট ভাইকে প্রদীপ ধরিয়া রান্নাথর হইতে বড়ঘরের রোয়াকে পৌছাইয়া দিতেছেন এমন সময়— অপু কত দিন নিজে বাড়ি যায় নাই। মাকে কভ দিন সে দেখে নাই। ইহার মত হাটিয়া যাতায়াতের পথ হইলে এতদিনে কতবার যাইত। রেলগাড়ি, গহনার নৌকা, আবার খানিকটা ইট-পথও। যাতায়াতে দেড় টাকা খরচ, তদ্ধির একমাসের জলখাবার। কোথায়