পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8२ বিভূতি-রচনাবলী দোকানগুলিতে খুব ভিড়। খেলা ও ম্যাজিকের তাঁবুগুলির সামনে খুব ঘণ্টা ও জয়ঢাক বাজিতেছে। অপু দাণ্ডাষ্টয়া দাড়াইয়া দেখিতে লাগিল—একটা বড় তাবুর বাহিরে আলকাতরমাখ জন দুই লোক বাশের মাচার উপর দঁাড়াইয়া কৌতুহলী জনতার সম্মুখে খেলার অত্যাশ্চর্যতা ও অভিনবত্বের নমুনা স্বরূপ একটা লম্বা লাল-নীল কাগজের মালা নানা অঙ্গভঙ্গিসহকারে মুখ হইতে টানিয় বাহির করিতেছে । সে পাশের একটা লোককে জিজ্ঞাসা করিল, এ খেলা ক’পয়সা জানো ? নিশ্চিন্দিপুরে থাকতে বাবার বইয়ের দপ্তরে একখানা পুরাতন বই ছিল, তাহার মনে আছে, বইখানার নাম 'রহস্য লহরী। রুমাল উড়াইয়া দেওয়া, কাটামুণ্ডুকে কথা-বলানো এক ঘণ্টার মধ্যে আম-চারায় ফল-ধরনো প্রভৃতি নানা ম্যাজিকের প্রক্রিয়া বইথানাতে ছিল। অপু বই দেখিয় দু-একবার চেষ্টা করিতে গিয়াছিল, কিন্তু নানা বিলাতী ঔষধের ফর্দ ও উপকরণের তালিকা দেখিয়া, বিশেষ করিয়া “নিশাদল" দ্রবাটি কি বা তাহ কোথায় পাওয়া যায় ঠিক করিতে ন পরিয়া, অবশেষে ছাড়িয়া দেয় । সে মনে মনে ভাবিল-গুই সব দেখেই তো ওরা শেখে । বাবার সেই বইখানাতে কত ম্যাজিকের কথা লেখা ছিল –নিশ্চিন্দিপুর থেকে আসবার সময় কোথায় যে গেল रहेर्थांनी ! চারিধারে বাজনার শবা, লোকজনের হাস-খুশি, খেলো সিগারেটের ধোয়ী, ভিড়, আলো, সাজানো দোকানের সারি, তাহার মন উৎসবের নেশায় মাতিয়া উঠিল। একদল ছেলেমেয়ে একখানা গেরুর গাড়ির ছইয়ের ভিতর হইতে কৌতুহল ও আগ্রহে মুখ বাড়াইয় মাজিকের তাপুর জীবন্ত বিজ্ঞাপন দেখিতে দেখিতে যাইতেছে। সকল লোককেই সিগারেট থাইতে দেখিয় তাহার ইচ্ছা হইল সেও খায়—একটা পানের দোকানে ক্রেতার ভিড়ের পিছনে খানিকট দাড়াইয়া অবশেষে একটা কাঠের বাক্সের উপর উঠিয়া একজনের কাধের উপর দিয়া হাঙটা বাড়াইয়া দিয়া বলিল, এক পয়সার দাও তো ? এই যে এইদিকে -এক পয়সার সিগারেট—ভাল দেখে দিও—যা ভালো । একটা গাছের তলায় বইয়ের দোকান দেখিয়া সেখানে গিয়া দাড়াইল । চটের থলের উপর বই বিছানো, দোকানী খুব বুড়া, চোখে স্বত-বাধা চশমা। একখানা ছবিওয়ালা চটি আরব্য উপন্যাস অপুর পছন্দ হইল—সে পড়ে নাই—কিন্তু দোকানী দাম বলিল আট আনা ! হাতে পয়সা থাকিলে সে কিনিত । বইখানা আর একবার দেখিতে গিয়া হঠাৎ সম্মুখের দিকে চোখ পড়াতে সে অবাক হইয়া গেল। সম্মুখের একটা দোকানের সামনে দাড়াইয়া আছে—পটু। তার নিশ্চিন্দিপুরের বাল্যসঙ্গী পটু! অপু তাড়াতাড়ি আগাইয়া গিয়া গায়ে হাত দিতেই পটু মুখ ফিরাইয় তাহার দিকে চাহিল —প্রথমটা যেন চিনিতে পারিল না-পরে প্রায় চিৎকার করিয়া বলিয়া উঠিল, অপুত্ৰ ?. এখানে কি ক’রে, কোথা থেকে অপু ?--