পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8b. बिडूङि-द्रानाबलौ একরকম কাটিল। কিন্তু এক এক সে তো আর থাকিতে পারে না। শুধুই, সব সময়ই, দিন নাই রাত্রি নাই,—অপুর কথা মনে পড়ে। অপুর কথা ছাড়া অন্ত কোন কথাই তাহার মনে স্থান পায় না । 尊 আজ সে গিয়াছে এই পাঁচ মাস হইল। কত শনিবার কত ছুটির দিন চলিয়া গিয়াছে এই পাচমাসের মধ্যে ! সর্বজয়া সকালে উঠিয়া ভার্ট গছে—আজি দুপুরে আলিবে! দুপুর চলিয়া গেলে ভাবিয়াছে বৈকালে আসিবে। অপু (সে নাই! অপুর কত জিনিস ঘরে পড়িয়া আছে, কত স্থান হইতে কত কি সংগ্ৰহ করিয়া আনিয়া রাখিয়া গিয়াছে—অবোধ পাগল ছেলে “শৃষ্ঠ ঘরের দিকে চাহিয়া সর্বজয়া হাপায়, অপুর মুখ মনে আনিবার চেষ্টা করে। এক একবার ভাহার মনে হয় অপুর মুখ সে একেবারে ভুলিয়া গিয়াছে। যতই জোর করিয়া মনে আনিবার চেষ্টা করে ততই সে মুখ অস্পষ্ট হইয়া যায়. অপুর মুখের আদলটা মনে আনিলেও ঠোঁটের ভঙ্গিটা ঠিক মনে পড়ে না, চোখের চাহনিট মনে পড়ে না-সর্বজয়া একেবারে পাগলের মত হইয়া ওঠে—অপুর, তাহার অপুর মুখ সে ভুলিয়া যাইতেছে! কেবলই অপুর ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। অপু কথা বলিতে জানিত না, কোন্‌ কথার কি মানে হয় বুঝিত না। মনে আছে-“নিশ্চিন্দিপুরের বাড়িতে থাকিতে একবার রান্নাবাড়ির দাওয়ায় কঁঠাল ভাঙিয়া ছেলেমেয়েকে দিতেছিল। দুর্গা বাটি পাতিয়া আগ্রহের সহিত কাঠাল-ভাঙা দেখিতেছে, অপু দুর্গার বটটা দেখাইয়া হাসিমুখে বলিয়া উঠিল—দিদি কাটালের বড় প্রভু, না মা ? সর্বজয়ী প্রথমটা বুঝিতে পারে নাই, শেষে বুঝিয়াছিল, ‘দিদি কাঠালের বড় ভক্ত এ কথাটি বুঝাইতে ‘ভক্ত কথাটার স্থানে প্রভু ব্যবহার করিয়াছে। তখন অপুর বয়স নয় বৎসরের কম নয়, অথচ তখনও সে কাজে—কথায় নিতান্ত ছেলেমানুষ । একবার নতুন পরণের কাপড় কোথা হইতে ছিড়িয়া আসিবার জন্ত অপুমার খাইয়াছিল। কতদিনের কথা, তবুও ঠিক মনে আছে। হাড়িতে আমসত্ত্ব, কুলচুর রাখিবার জো ছিল না, অপু কোন ফাকে ঢাকনি খুলিয়া চুরি করিয়া খাইবেই। এই অবস্থার একদিন ধরা পড়িয়া যার, তখনকার সেই ভয়ে-ছোট-হইয়া-যাওয়া রাঙা মুখখানি মনে পড়ে। বিদেশে একা কত কষ্টই হইতেছে, কে তাহাকে সেখানে বুঝতেছে। আর একদিনের কথা সে কখনো ভুলিবে না । অপুর বয়স যখন তিন বৎসর, তখন সে একবার হারাইয়া যায়। খানিকট আগে সম্মুখের উঠানের কাঠাল-তলায় বসিয়া খেলা করিতে তাছাকে দেখা গিয়াছে, ইহারই মধ্যে কোথায় গেল !..পাড়ায় কাহারও বাড়িতে নাই, পিছনের বাশবনেও নাই—চারিধারে খুজিয়া কোথাও অপুকে পাইল না। সর্বজয় কাদিয়া আকুল হইল—কিন্তু যখন হরিহর বাড়ির পাশের বঁাশঙলার ডোবাটা খুজিবার জন্ত ও-পাড়া হইতে জেলেদের ডাকিয়া আনাইল, তখন তাহার আর কান্নাকাটি রহিল না। সে কের্মন কাঠের মত ছইরা ডোবার পাড়ে দাড়াইয়া জেলেদের জাল-ফেলা দেখিতে লাগিল। পাড়ামুন্ধ লোক ভাঙিয়া পড়িয়াছিল-ডোবায় পাড়ে অঙ্কুর জেলে টানাজালের স্বাধন