পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত 8సి খুলিতেছিল, সর্বজরা ভাবিল অঙ্কুর মাঝিকে চিরকাল সে নিরীহ বলিয়া জানে, ভাল মাছুষের মত কতবার মাছ বেচিয়া গিয়াছে তাঁহাদের বাড়ি—সে সাক্ষাৎ যমের বাহন হইয়া আসিল কি করিয়া ? শুধু অক্রুর মাঝি নয়, সবাই যেন যমদূত, ও অন্ত লোকেরা, যাহারা মজা দেখিতে ছুটিয়াছে, তাহারা—এমন কি তাহার স্বামী পর্যন্ত। সে-ই তো গিয়া ইহাদের ডাকিয়া আনিয়াছে। সর্বজয়ার মনে হইতেছিল যে, ইহারা সকলে মিলিয়া তাহার বিরুদ্ধে ভিতরে ভিতরে কি একটা ষড়যন্ত্র আঁটিয়াছে—কোন হৃদয়হীন নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র। ঠিক সেই সময়ে দুর্গ অপুকে খুজিয়া আনিয়া হাজির করিল। অপু নাকি নদীর ধারের পথ দিয়া হন হন করিয়া হাটিয়া একা একা সোনাডাঙার মাঠের দিকে যাইতেছিল, অনেকখানি চলিয়া গিয়াছিল। তাহার পর ফিরিতে গিয়া বোধহয় পথ চিনিতে পারে নাই। বাড়ির কাঠাল-তলায় বসিয়া খেলা করিতে করিতে কখন কোন ফাকে বাহির হইয়া গিয়াছে, কেহ জানে না । যখন সকলে যে-যাহার বাড়ি চলিয়া গেল, তখন সর্বজয়া স্বামীকে বলিল—এ ছেলে কোনদিন সংসারী হবে না, দেখে নিও— হরিহর বলিল—কেন ?...তা ও-রকম হয়, ছেলেমামুষে গিয়েই থাকে— সর্বজয় বলিল—তুমি পাগল হয়েছ।-তিন বছর বয়সে অন্য ছেলে বাড়ির বাইরে পা দেয় না, আর ও কিনা গা ছেড়ে, বাশবন, মাঠ ভেঙ্গে গিয়েছে সেই সোনাডাঙার মাঠের রাস্তায় । তাও ফেরবার নাম নেই—হন হন্‌ ক’রে হেঁটেই চলেছে –কথখনো সংসারে মন দেবে না, তোমাকে বলে দিলাম—এ আমার কপালেই লেখা আছে | কত কথা সব মনে পড়ে–নিশ্চিন্দিপুরের বাড়ির কথা, দুর্গার কথা। এ জায়গা ভাল লাগে না, এখন মনে হয়, আবার যদি নিশ্চিন্দিপুর ফিরিয়া যাওয়া সম্ভব হইত। একদিন যেনিশ্চিম্বিপুর ছাড়িয়া আসিতে উৎসাহের অবধি ছিল না, এখন তাঁহাই যেন রূপকথার রাজ্যের মত সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারকার ধরা-ছোয়ার বাহিরের জিনিল হইয়া পড়িয়াছে। ভাবিতে ভাবিতে প্রথম বসন্তের পুপমুবালমধুর বৈকাল বহিয়া যায়, অলস অন্ত-আকাশে কত রং ফুটিয়া আবার মিলাইয়া যায়, গাছপালায় পাখি তাকে। এ রকম একদিন নয়, কতদিন হইয়াছে। কোন কিছু ভালমন্দ জিনিস পাইলেই সেটুকু সর্বজয় ছেলের জন্ত তুলিয়া রাখে। কুণ্ডুদের বাড়ির বিবাহের তত্ত্বে সনেশ আসিলে সর্বজয় প্রাণ খুরিয়া তাহার একটা খাইতে পারে নাই। ছেলের জন্ত তুলিয়া রাখিয়া রাখিয়া অবশেষে যখন হাড়ির ভিতর পচিয়া উঠিল তখন ফেলিয়া দিতে হইল। পৌষপার্বণের সময় হয়ত অপু বাড়ি আসিবে, পিঠা খাইভুে ভালবাসে, নিশ্চয় আসিবে। সর্বজরা চাল কুটিয়া সমস্ত আয়োজন ঠিক করিয়া রাখিয়া বসিয়া রহিল-কোখার অপু ? এক সময় তাহার মনে হয়, অপু আর সে অপু নাই। সে যেন কেমন হইল্প গিয়াছে, কই অনেকদিন তো সে মাকে হুঁ-উ-উ করিয়া ভয় দেখায় নাই, অকারণে আসিয়া তাহাকে दि. ब्र २-s