পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ পরিচ্ছেদ 馨 বৎসর দুই কোথা দিয়া কাটির গেল। অপু ক্রমেই বড় জড়াইরা পড়িয়াছে, খরচে আয়ে কিছুতেই আর কুলাইতে পারে না। নানাদিকে দেন–কতভাবে হুঁশিয়ার হইয়াও কিছু হয় না। এক পয়সার মুড়ি কিনির দুই বেলা খাইল, নিজে সাবান দিয়া কাপড় কাচিল, লজেঞ্চুস ভুলিয়া গেল । পরদিনই আবার বোর্ডিং-এর ছেলেদের দল চাদা করিয়া হালুয়া খাইবে । অপু হাসিমুখে সমীরকে বলিল—ছু আন ধার দিবি সমীর, হালুয়া খাবো – আন ক'রে চাদ-ওই ওরা ওখানে করছে—কিশমিশ দিয়ে বেশ ভাল ক'রে করচে— সমীরের কাছে অপুর দেন। অনেক । সমীর পয়সা দিল না। g প্রতিবার বাড়ি হইতে মাসিবার সময় সে মায়ের যৎসামান্ত আয় হইতে টাকাটা আধুলিটা প্রায়ই চাহিয়া আনে—ম না দিতে চাহিলে রাগ করে, অভিমান করে, সর্বজয়াকে দিতেই হয় । ইহার মধ্যে আবার পটু মাঝে মাঝে আসিয়া ভাগ বসাইয়া থাকে। সে কিছুই সুবিধা করিতে পারে নাই পড়াশুনার। নানাস্থানে ঘুরিয়াছে, ভগ্নীপতি অজুন চক্রবর্তী তো তাহাকে বাড়ি ঢুকিতে দেয় না। বিনিকে এ সব লইয়া কম গঞ্জনা সহ করিতে হয় নাই বা কম চোখের জল ফেলিতে হয় নাই ; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পটু নিরাশ্রয় ও নিরবলম্ব অবস্থায় পথে পথেই ঘোরে, যদিও পড়াশুনার আশা সে এখনও অবধি ছাড়ে নাই। অপু তাহার জন্ত অনেক চেষ্টা করিয়াছে, কিন্তু সুবিধা করিতে পারে নাই। দু-তিন মাস হয়ত দেখা নাই, হঠাৎ একদিন কোথা হইতে পুটলি বগলে করিয়া পটু আসিয়া হাজির হয়, অপু তাহাকে যত্ন করিয়া রাখে, তিন-চারদিন ছাড়ে না, সে না চাহিলেও যখন যাহা পারে হাতে গুজিয়া দেয়— টাকা পারে না, সিকিট, দুয়ানিটা। পটু নিশ্চিন্দিপুরে আর যায় ন—তাহার বাবা সম্প্রতি মারা গিয়াছেন—সৎমা দেশের বাড়িতে র্তাহার দুই মেয়ে লইয়া থাকেন, সেখানে ভাই বোন কেহই আর যায় না। পটুকে দেখিলে অপুর ভারি একটা সহানুভূতি হয়, কিন্তু ভাল করিবার তাহার হাতে আর কি ক্ষমতা আছে ? একদিন রাসবিহারী আসিয়া দু’আনা পয়সা ধার চাহিল। রাসবিহারী গরীবের ছেলে, তাহা ছাড়া পড়াশুনার ভাল নয় বলিয়া বোর্ডিং-এ খাতিরও পায় না। অপুকে সবাই দলে নেয়, পয়সা দিতে না পারিলেও নেয়। কিন্তু তাহাকে পোছেও না। অপু এ সব জানিত বলিয়াই তাহার উপর কেমন একটা করুণা। কিন্তু আজ সে নানা কারণে রাসবিহারীর প্রতি সত্তই ছিল না। বলিল, আমি কোথায় পাবো পয়সা -আমি কি টাকার গাছ ?—দিতে পারবো না যাও —রাসবিহারী পীড়াপীড়ি শুরু করিল। কিন্তু অপু একেবারে বাকিয়া বসিল। বলিল, কক্ষনে দেবো না তোমায়—যা পারো করে। রমাপতির কাছে ছেলেদের একখানা মাসিক পত্র আসে তাঁহাতে সে একদিন ‘ছায়াপথ