পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী

পচিশ-ত্রিশ আইনে। সাহেবের খোশামুদি করতে ইচ্ছে হয় এতে ? একেবারে অপদার্থ সব ! কী শিক্ষা দেবেন আপনারা ছেলেদের ? নিজেদের এতটুকু আত্মসন্মান জ্ঞান নেই ? সাহেবের হয়ে তরি করতে এসেছেন, লজ্জা করে না ? সাহেবকে এ নীটিংয়ে তাড়াবই— তারপর আপনাদের মত অপদার্থ দু-একজন টীচারকেও সরান্তে হবে, তবে যদি এবার স্কুলটা ভাল হয়, ইত্যাদি । মীটিংয়ের দিন ক্ষেত্রবাৰু দল লইয়া আর-একবার দুই-একজন মেম্বরের বাড়ী গেলেন। মেম্বরদের বিশ্বাস নাই, হয়তো ভুলিয়া বসিয়া আছে, ঘন ঘন মনে না করাইয়া দিলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। সকলেই বলিল, তাহাদের মনে করাইয় দিতে হইবে না। ছয়টার সময় মীটিং। বেলা চারটার সময় হইতে উভয় দল আসিয়া স্কুলে বসিয়া রহিল ; অথচ কেহ কাহারও প্রতি অসম্মান দেখাইল না। মিঃ আলম হেডমাস্টারের ঘরে গিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, খাতাপত্র কী কী দরকার আছে মীটিংয়ে নিয়ে যাবার জন্য, বলুন । —বোস মিঃ আলম, চা খাবে এক পেয়ালা ? —থ্যাঙ্কস এখন আর থাকৃ। - মীটিং বসিল । সাহেবের অদ্ভুত ব্যক্তিত্ব। মিঃ আলমের দলের অত তদ্বির, অত অনুরোধ, অত ধরাধরি সব বুঝি ভাসিয়া যায়। সাহেবকে সরাইবার সম্বন্ধে কোন প্রস্তাব কেহ আনে না—কাৰ্য্য-তালিকার মধ্যে এ প্রস্তাব নাই ; মৃতরাং ‘বিবিধ’ কতক্ষণে আসে, সেই অপেক্ষায় উভয়দল দুরুদুরু বক্ষে প্রতীক্ষা করিতে লাগিল। ডাক্তার গাজুলী, যিনি অত লম্ফঝম্প করিয়াছিলেন সাহেব তাড়ানোর জন্য, তিনি মীটিংয়ের গতিক বুঝিয়া সরু মিহি স্বরে প্রস্তাব আনিলেন যে সাহেবকে অত বেতন দিয়া এই গরীব স্কুলে রাখা পোষাইতেছে না, বিশেষত: নতুন ছাত্র যখন আশাহুরূপ ভাতও হইতেছে না। অতএব সাহেবের বেতন কমানো হউক। সে প্রস্তাব সমর্থন করিলেন অন্যতম স্বদেশী মেস্বর নৃপেন সেন । সভাপতি প্রস্তাব ভোটে ফেলিতে দেখা গেল, ডা: গাজুলী আর নৃপেনবাবু ছাড়া প্রস্তাবের পক্ষে আর কাহারও মত নাই ; এমন কি, শিক্ষকদের প্রতিনিধি মি: আলম পৰ্য্যন্ত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেন। ডা: গাজুলী মি: আলমকে ডাকিয় আড়ালে বলিলেন, এটা কি রকম হল মশাই ? আপনি আমাদের নাচালেন, শেষে কিনা আপনি নিজে— মিঃ আলম বিনীতভাবে যাহা বলিলেন, তাহা সত্যই অসঙ্গত নয়। তিনি এখনও ক্লার্কওয়েল সাহেবের অধীনে চাকুরি করেন, প্রকাখে তিনি কোনও মতেই তাহার বিরুদ্ধে যাইতে পারেন না ; বরং শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসাবে শিক্ষকদের স্বাৰ্থ বজায় রাখিয়া তিনি কর্তব্য পালনই করিয়াছেন। - - নৃপেন সেন বলিলেন, জানি জানি, আপনাদের এই রকমই মর্যাল কারেজ। ঘেন্না হয়, বাঙালী জাতটা এই রকমেই উচ্ছন্নয় গেল। আপনারা কী শেখাবেন ছেলেদের ? মটিং-অন্তে যে যাহার ঘরে চলিয়া গেল। ক্ষেত্রবাবুর দলকে সাহেব ডাকাইয়া বলিলেন,