পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/১৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমুকৰ্ত্তন যাতায়াত ছিল, এখন কমিয়া গিয়াছে ? আড়তের টিনের চালা নজরে পড়িতেই যন্ধুবাবুর বুকের মধ্যে কেমন করিয়া উঠিল, জিভ उकोहेब्रा श्रांनिज । পথের ধারে খালের জলে একটা ইাড়ি-বোঝাই ভড় হইতে লোকজন হাড়ি নামাইতেছিল। যছবাৰু লক্ষ্য করিলেন, অনেকগুলি মাটির তোলোছাড়ি ভাঙায় সাজাইয়া এক পাশে রাখিয়া দিয়াছে। এক পাশে ভূপাকার কলিক। লুঙ্গি-পরা এক মাঝি আরও কলিকা নামাইতেছে। যত্নবাৰু ভাবিলেন, এ ছাড়িতে আর কি কেউ ভাত রোধে খাবে ? কলকাতা শহর তো ফাকা—এত কৰেতেই বা তামাক খাবে কে ? তখন একেবারে আড়তের সামনে তিনি পৌঁছিয়া গিয়াছেন। সামনেই একজন ভদ্রলোক বসিয়া আছেন, বছর পঞ্চাশেক বয়স, মাথায় টাক, রঙ খুব গৌরবর্ণ, গায়ে হাত-কাটা বেনিয়ান। লোকটি গুড়গুড়িতে তামাক খাইতেছিলেন। ঘছবাৰু পৈঠা দিয়া উঠতে উঠতে হাত তুলিয়া নমস্কার করিয়া বলিলেন, এই যে সীতানাথবাবু, ভাল আছেন ? –এই যে যন্ধুবাবু আমুন—বস্থান। তারপর কোথা থেকে ? রমানাথ কোথায় । রমানাথ বন্ধুবাবুর খালক, আজ বছর কয়েক যন্ধুবাবু তাহার কোন খবর জানেন না; সেও ভগ্নীপতির খবরাখবর রাখে না। কিন্তু সে কথা এ স্থলে বলা ঠিক হইবে না। বাহার স্ববাদে আড়তের মালিকের সঙ্গে পরিচয়, সে-ই যদি খোঁজখবর না রাখে, তবে ইহার নিকটও স্বস্তুবাবুকে কিঞ্চিৎ খেলো হইতে হয় বইকি। স্বতরাং তিনি বলিলেন, রামু সেইখানেই আছে। মধ্যে আসবে লিখেছিল, ছুটি পাচ্ছে না— —সেই জব্বলপুরেই আছে ? অাছে ভাল ? —হ্যা, তা ভাল আছে । —আপনাদের স্কুল ছুটি হয়ে যায় নি ? আপনি এখনও স্কুলে আছেন তো । —আছি বইকি। নয়তে কী আর করব বলুন ? আপনাদের মতন তো ব্যবসা-বাণিজ্য শিখি নি। আড়তের মালিক হাসিয়া বলিলেন, আপনাদের তো ভাল, বিছানা বাক্স বাধলেন, কলকাতা থেকে পালালেন, আমাদের কী হয় বলুন তো ? গুদোমভরা মাল নিয়ে এখন খাই কোথায় ? বোমা পড়ে, এখানেষ্ট যা হয় হোক। বন্ধন, চা খাবেন ? ওয়ে দু পেয়ালা চা করতে বল ঠাকুরকে । - t চা খাইয়া এ-কথা ও-কথার পরে যত্নবাৰু আসল কথাটি উত্থাপন করিবার পূৰ্ব্বে যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করিয়া লইলেন। তাহার পর শুল্কমুখে বার দুই-তিন টোক গিলিয়া বলিলেন, আপনার কাছে এসেছিলাম সীতানাথবাবু, হাতে বিশেষ কিছু নেই, একেবারেই খালি। কলকাতার বাইরে যেতে হলে কিছু হাতে রাখা দরকার। গোট কুড়ি টাকা যদি আমাকে ধার দেন এসময় তবে বড়ই উপকার করা হয়, আমি অবিপ্তি যত সম্বর হয়, আপনার ধার বি, র. ৭—১১