পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবাগত ? २२> ওরা ওই রকম। সাধনের বেী মুখঝঙ্কার দেয়, তাকে একেবারেই মানে না। সেকালের আর একালের মেয়েতে কি তফাৎ, তাই সে ভাবে এক এক সময়ে। তারও একদিন সতেরো বছর বয়স ছিল, কখনো শাশুড়ীর একটা কথার অবাধ্য হতে সাহস হ’ত তার ? আশ্চধি । একটু পরে নিস্তারিণীর শাশুড়ী এসে দূরে দাড়িয়ে বল্লে—বলি, হ্যা বেী, তোমার আকেলখানা কি ? অাজ নাকি ভাত খেতে চেয়েচ ? জর রয়েচে চব্বিশ পহরের জন্তি । ভাত খেলেই হল অমনি ? বলি, সোয়ামী খেয়েচ পুত্তর খেয়েচ, দেওর থেয়েচ—এখনো খাওয়ার সাধ মেটেনি তোমার ? * নিস্তারিণী বড় দুর্বল হয়ে পড়েচে অস্বপ্নে-তবু সে বলে, সোয়ামি পুত্তর তো তুমিও থেয়েছিলে, তবুও তিন পাথর করে ভাত মারো তো তিনটি বেলা। লজ্জা করে না বলতি ? নিস্তারিণীর শাশুড়ী এ’কথার উত্তরে চীৎকার ক’রে গালাগালি দিয়ে এক কাগুই বাধালে। সাধনের বউকে ডেকে বলে দিলে—ওকে কিছু খেতে দিবিনে আজ বলে দিচ্চি। এ সংসারে যে খাটবে, সে খাবে। আমরা সবাই মায়ে ঝিয়ে খাটি, ও শুধু শুয়ে থাকে। রোগ নিয়ে শুয়ে থাকলি এ সংসারে চলে না । তার ওপর আবার যে সে রোগ নয়, ওকে বলে পাণ্ডুর রোগ। মুখ হলদে, চোখ হলদে, হাত পা ফুলেচে, ও কি সহজ রোগ ? ও আর উঠবেও না, খাটবেও না, কেবল শুয়ে শুয়ে পাথর পাথর খাবে। নিস্তারিণী বল্পে—থাবো—খাবে, বেশ করবো | আমার খোকা কলাবাগান সামলে রাখতো, তারই আয়ে বাড়ীম্বুদ্ধ, খাওনি ? সেই কলাবাগান তদ্বির করতে গিয়েই বাছা আমার চলে গেল। তোমরা ওদের রাপছেলের রক্ত জল করা কলাবাগান, মনিহারি ব্যবসা ঘোচালে । এখন আমায় বসিয়ে খেতে দেবে ন৷ তো কি করবে ? নিশ্চয়ই দিতে হবে । —বাসি অাখার ছাই খেয়ে দেবে। ডাইনি রাজুসি—আমার সংসার তোর দিষ্টিতে জলে পুড়ে গেল—নইলে কি না ছেল, গোলাভর ধান ছেল না ? হাড়ি ভৰ্ত্তি ডালডুল, গোয়াল ভক্তি গোরু ছাগল—ছেল না কি ? • " উভয় পক্ষের চেচামেচি শুনে ওর জা নিৰ্ম্মল। সেখানে এসে পড়লো। এটি হরি যুগীর ছোট ভাই যুগলের বিধবা স্ত্রী। এর একমাত্র পুত্র বলাই এই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পুরুষ মানুষ। বলাইয়ের বয়েস এই উনিশ বছর। 數 বলাই বঁাশ কিনে গাড়ী বোঝাই দিয়ে রেলস্টেশনে নিয়ে যায়, সেখান থেকে মালগাড়ীতে উঠিয়ে কলিকাতায় পাঠায়। গত বছরখানেক এ ব্যবসা ক’রে সে গোট পঞ্চাশ টাকা হাতে জমিয়েচে–মার হাতেই এনে দিয়েচে সে টাক। নিৰ্ম্মল! আবার সে টাকাট। থেকে কুড়িটি টাকা শাশুড়ীকে দিয়েচে । বুড়ী সেই টাকায় পাশের গ্রাম থেকে দুধ কিনে এ গ্রামের ব্রাহ্মণপাড়ায় যোগান দেয়, তাতেও সামান্য কিছু লাভ থাকে। বুড়ীর বয়স সত্তর ছাড়িয়ে গেলেও সে এখনও দুপুর রোদে সারা পাড়া, সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ায়--