পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবাগত g २९१ ভাজা কাজটা মেয়েমানুষের, পুরুষের নয়—ওটা শাশুড়ীর বিন সাহায্যে সম্পূর্ণ হয় না। রান্নাঘরে যেতে সাধনের বেী বল্লে—কাকীমার বুড়ীর কাছে রোজ বল চাই-ই। আমন ফুলে ঢোল হয়ে উঠেছে—পাপের দেহ তাই কষ্ট পাচ্ছে—নইলে মরে’ যেত কোনকালে । নিৰ্ম্মলা ধমক দিয়ে বল্লে—অমন বলিস নে বেীমা, মুখে পোকা পড়বে। সতী নক্ষি মেয়ের নামে কিছু বোলো না । তোর আপন শাশুড়ী না ? তুই ও-সব কথা মুখে বের করিল কি ক’রে ? আজই না হয় ও অমন হয়ে গিয়েচে–ও যে কি ছিল, আমি সব দেখিচি । এই সংসারের য। কিছু ঝক্কি চিরডাকাল ও পুইয়েছে । দেওরদের মানুষ করা, বিয়ে থাওয়া দেওয়৷ —ও না থাকলে সংসার টিকতে না । আজ না হয় ওর— সাধনের বেী ঠোট উণ্টে বল্লে—হোক গে যাক বাপু । ৪ নিজের ছেলে খেয়েছে—ওর ওপর আমার একটুকু ছেদা নেই। যতই বলে । —ও খেয়েছে, কি বলিস্ বৌমা ? ও ছেলে খেয়েছে ! যাবার আদেষ্টে যায় চলে। কার দোষ দেবো । তা হলে তো তোকেও বলতে পারি—তুই সোয়ামী থেয়েছিস । এই কথার উত্তরে খুড়শাশুড়ী ও বৌয়ে তুমুল ঝগড়া বেধে উঠলো। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি। পূজো প্রায় এসে পড়েছে। নিস্তারিণী একেবারে উত্থানশক্তিহীন হয়ে পড়েছে। দিনের অৰ্দ্ধেক সময় তার জ্ঞান থাকে না । এক একবার চেতনা সজাগ হয়ে ওঠে, তখন কেবল এদিক-ওদিক চেয়ে নাতিকে খোজে, নিৰ্ম্মলাকে খোজে। ওর মলিন বিছানা ও সারা দেহে কেমন একটা দুৰ্গন্ধ ব’লে আজকাল কেউই কাছে আসতে চায় না। কেবল খাওয়ার সময় কোনদিন নিৰ্ম্মল, কোনদিন বা সাধনের বেী দুটি ভাত দিয়ে যায়। সেদিনও চোখ মেলে ভাত খাবার চেষ্টা করলে—কিন্তু পারলে না। অনেকক্ষণ পরে পুত্রবধূ বল্লে—ভাত খাওনি যে, খাইয়ে দেবো ? নিস্তারিণী অবাক হয়ে গেল অম্বথের ঘোরের মধ্যেও । বল্লে—তাই দে বেীম। সাধনের বে। ভাত দুটি খাইয়ে এ টে। থালা নিয়ে চলে গেল। একটু পরে নিৰ্ম্মল। বাড়ী এল। রোগীকে দেখতে গিয়ে ওর মনে হ’ল অবস্থা ভালো নয়। আপন মনে বল্লে—ঠাকুর, ওকে মুক্তি দাও, বড্ড কষ্ট পাচ্ছে— প্রতিদিন সন্ধ্যায় যেমন নিস্তারিণীর জ্ঞান হয় আজও তেমনি হ’ল । জা’কে অবোধ বালিকার মত আবদারের স্বরে বন্ধুে—দুটো পাস্তাভাত আfর ইলিশ মাছ ভাজ খাবে।— নিৰ্ব্বল দু'চিন দিন চেষ্টার পরে অতি কষ্টে এই যুদ্ধের বাজারে ইলিশ মাছ জুটিয়ে এনে ছিল, কিন্তু জা’কে খেতে দিতে পারে নি । নিস্তারিণীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে ঝু’কলো পরদিন দুপুর থেকে। সে অস্ত্রখের ঘোরে কোন বিশ্বত পথ বেয়ে ফিরে গেল তার যৌবনদিনের দেশে। বাড়ুভুেr দের নখগী যেন এসে হেসে হেসে বলচেন, "আমায় আজ ছ’কাঠা চাল ধার দিতে হবে বোঁ । ৰেীম ভাড়িয়ে দিয়েচে বাড়ী থেকে—তুমি না দিলে দাড়াবো কোথায় "যে সব লোক