পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবাগত ९8१ পড়ে ছিল সকালবেলা। —আজ নতুন দেখলেন আপনি ? ও হুটো-পাচটা রোজ মরছে। কাল বৈঠকখানার বাজারে কণ্টোলের চালের কিউতে এক বুড়ী ধুকতে ধুকতে মারা গেল, আমাদের দোকানের সামনে । —কিসের দোকান আপনাদের ? —কাপড়কাচা সাবান । আমি এই ইঠিশানে নামব, পুটুলিট ছেড়ে দেন –চিড়ে, তাই দু’টাকা সের। মনে পড়ল, আমাদের দেশের হাটে সদগোপ মেয়ের চিড়ে বিক্রি করত, দু’আন সের, চিরকাল দেখে এসেছি। চার আনা সেরের মুড়কি খুব ভাল মুড়কি ছিল। আর সে সব দিন ফিরবে কখনও ? কি একটা স্টেশনে এসে গাড়ী দাড়াল। শিখ দাড়িয়ে উঠল, দরজা ঠেলে বন্ধ ক’রে যাত্রীদের রুখতে হবে । আবার একদফা হৈ-হৈ চীৎকার, গালাগালি, অমুনয়-বিময় ও হুঙ্কারের পালা শুরু হ’ল । একটা কচি ছেলের চীৎকার প্ল্যাটফর্মের বাইরে। একজন লোক জানালা দিয়ে গ’লে আসবার প্রাণপণ চেষ্টা করাতে গাড়ীর লোকে তাকে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দিয়ে জানালা বন্ধ ক’রে দিলে । মনে হ'ল, বেশ হয়েছে, ওঁঠ জানাল দিয়ে ! মন নিষ্ঠুর নিৰ্ম্মম হয়ে উঠেছে বিপদের মুখে পড়ে ; অন্য কারও স্ববিধা-অসুবিধা সে এখন বুঝতে রাজি নয় ! একটা স্টেশনে দেখা গেল, চারিদিকে থৈ-থৈ করছে জল । বললাম,—এটা কি বম্ভে নাকি ? একজন বললে,—কাসাই নদীর বন্তে । কত ধান যে ডুবে গিয়েছে, দু’খানা গ৷ একেবারে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে মশাই । শিখ দ্বারপাল বললে,—নেই হোগা, আগাড়িওয়াল ডাকবা একদম খালি, যাও আগাড়ি । আর একজন বললে,—ভাসিয়ে নিয়ে যাবে না মশাই ? gচতাবুনিতে যে লিখেছিল— কোণ থেকে কে বলে উঠল,—বাদ দিন চেতাবুনি ! জোচ্চোর কোথাকার— অর্থাৎ লোকটা চেতাৰুনিতে কথিত প্ৰলয় দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছে। এইবার সেই লুঙি-পরা লোকটি নড়েচড়ে বসে বললে—বাবু, আমাদের নন্দিগ্রাম থানায় এমন এক জর দেখা দিয়েছে, যার হচ্ছে, তিন দিন চার দিন পরে মারা পড়ছে। আর বছর হ’ল আশ্বিনে ঝড়, এ বছর বন্তে আর তার সঙ্গে এই জর। আমার মশাই বাইশ বছরের ছেলে— ব’লেই, কোথাও কিছু নেই, -লোকটা হাউমাউ ক’রে কেঁদে উঠল। —কি হয়েছে ছেলের ? **e —আর কি হবে বাবু, নেই। সেই খবর পেয়েই তো দেশে যাচ্ছি। কলকাতায়