পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२8b বিভূতি-রচনাবলী কলে চাকরি করি, আর-বছর ঘরণের ঝড়ে সব পড়ে গেল, আবার এ বছর বাইশ বছরের ছেলেটা— আবার সে হাউ হাউ ক’রে কেঁদে উঠল। গাড়ীস্বদ্ধ লোকের গোলমাল যেন মন্ত্রবলে স্তব্ধ হয়ে গেল। শিখ দ্বারপাল তার হুঙ্কার থামিয়েছে। কাছাকাছি দু-একজন লোক সাত্বনা দেবার কথা বলতে লাগল ! কি অসহায় ওর কান্না ! —কেঁদো না ভাই, কি করবে কেঁদে, আহ, বাইশ বছরের ছেলে । বাচা-মরা কারও হাতে নয় দাদা। নাও, বিড়িটা ধরাও । ওই একটি পুত্রবিয়োগাতুর পিতার ক্ৰন্দনে গাড়ীর আবহাওয়া যেন বদলে গেল এক মুহূৰ্ত্তে। *চ্যগ্রপরিমাণ স্থানের জন্যে যে নির্লজ্জ চেষ্টা ও অঁাকড়ে থাকবার আগ্রহ, তা বন্ধ হয়ে গেল । —স’রে আসুন না, এদিকে জায়গা আছে । একটা ছোট ছেলে অনেকক্ষণ থেকে একটানারকেল তেলের বোতল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে ছিল, এতক্ষণ পরে একজন কে তাকে হাত ধ’রে বললে,-বাবা, এখানে ব’ল কোনও রকমে, হয়ে যাবে এখন । যে লুঙি-পরা লোকটিকে এতক্ষণ আমি গুণ্ডার সর্দার ব’লে ভাবছিলাম, তার মুখের দিকে চেয়ে কেমন একটা করুণা ও সহানুভূতির উদ্ৰেক হ’ল । হতভাগ্য পিতা, হয়তো ওর বৃদ্ধ বয়সের সম্বল হয়ে দাড়াত এই পুত্রটি, হয়তে ওর একমাত্র পুত্র। গাড়ীর আবহাওয়া ওর কান্নার স্বরে কি আশ্চৰ্য্যভাবেই বদলে গিয়েছে। এই নিৰ্ম্মমতা, নিষ্ঠুরতা, উগ্র স্বার্থবোধ, যা হাওড়া থেকে উঠে পৰ্য্যস্ত সমানে দেখে আসছি, যাতে শুধু মানুষের পশুত্বের ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছিল চোখের সামনে, ওই লুঙি-পরা লোকটির চোখের জলে সব যেন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেল। মাছুষের লজ্জা হ’ল মানবতার অপমানে যেন। যেন সবাই সতর্ক হয়ে উঠল। এইবার যে স্টেশনে গাড়ী এসে দাড়াল, সেখানে লোকটি নেমে যাবে। গাড়ীর এক কোণে একটি দাড়িওয়াল বৃদ্ধ ব’সে.ছিল, সে আবেগভরে বললে,—এখানে নামবে ? আচ্ছা বাবা, ভগবান তোমার মনে শাস্তি দিন, আমি বুড়ো বামুন, আশীৰ্ব্বাদ করছি, ভালো হবে তোমার, ভালো হবে ! অারক লাহোর মিউজিয়মে যখন চাকরী করতাম সে সময় লাহোরের বিখ্যাত ‘দেশ-বন্ধু কাগজের মূসাদক বিনায়ক দত্ত সিং মহাশয়ের সঙ্গে আমার যথেষ্ট আলাপ হয়। মিঃ সিংহ প্রাচীন মুম্বাস্ত বংশের সস্তান, তাদের আদি বাসভূমি পাঞ্জাবে নয়, রাজপুতানার কোট রাজ্যে ।