পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এমন ধরনের ছেলেরাই প্রাইভেট টিউটরকে ভোগায় বেশী। এ ছেলেরা এই অঙ্ক কষাইয়া লয়, ওটার ভাবাংশ লিখাইয়া লয়—খাটাইয়া ফরমাশ দিয়া যদুবাৰুকে রীতিমত বিরক্ত করিয়া তোলে প্রতিদিন। ক্লার্কওয়েল সাহেবকে ফাকি দেওয়া চলে, কিন্তু প্রাইভেট টুইশানির ছাত্র বা ছাত্রের অভিভাবকদের ফাকি দেওয়া বড়ই কঠিন। রাত পৌনে দশটার সময় মৃদুবাবু উঠিবার উদ্যোগ করিতেছেন, এমন সময় ছেলেটি বলিল, একটু বাকী আছে স্যার। কাল ইংরেজী থেকে বাংলা রিট্রানস্লেশন ( বারো আম শিক্ষক ও ছাত্র এই ভূল কথাটি ব্যবহার করে) রয়েচে, বলে দিয়ে যান। যদুবাবুর মাথা তখন ঘুরিতেছে। তিনি বলিলেন, আজ না হয় থাক । —না স্তার। বকুনি খেতে হবে, বলে দিয়ে যান। —কই, দেখি। এতটা ? এ যে ঝাড়া আধ ঘণ্টা লাগবে ! আচ্ছা, এস তাড়াতাড়ি । আমি বলে যাই, তুমি লিখে নাও। নিৰ্ব্বোধ ছাত্রকে লিখাইয়া দিতেও প্রায় আধ ঘণ্ট। লাগিয়া গেল। রাত সাড়ে দশটার সময় ক্লাস্ত বিরক্ত যদুবাবু আসিয়া বাড়ী পৌছলেন ও যrহয় ছুটি মুখে দিয়াই শয্যা আশ্রয় করিলেন। পরদিন স্কুলে ক্লার্কওয়েল সাহেব জ্যোতিবিনোদ মহাশয়কে ডাকাইয়া বলিলেন, পণ্ডিত, তুমি মেমসাহেবের কাছে কেন গিয়েছিলে ? চাকরি তোমার বন্ধ আছে আমার হুকুমে, ভা রদ হবে না । জ্যোতির্বিবনোদ ইংরেজী বোঝেন না, কিন্তু আন্দাজ করিয়া লইলেন, সাহেবকে মেমসাহেব কোন কথা বলিয়া থাকিবে, তাহার ফলেই এই ডাক । তিনি হাত জোড় করিয়া বলিলেন, সাহেব মা-বাপ, আপনি না রাখলে কে রাখবে ? আমি এমন কাজ আর কখনও করব না। হেডমাস্টারের মুখে ঈষৎ হাসির আভাস দেখিয়া জ্যোতিবিনোদের মনে আশ্বাস জাগিল। সাহস পাইয়া তিনি হেডমাস্টারের টেবিলের সামনে আগাইয়া গিয়া বলিলেন, এবার অামায় মাপ করুন,—ব্রাহ্মণ—আমার অন্ন— - হেডমাস্টার টেবিলের উপর কিল মারিয়া বলিলেম, ব্রাহ্মণ আমি মানি না। আমার কাছে হিন্দু-মুসলমান সমান। জ্যোতিৰ্ব্বিনোদ চুপ করিয়া রছিলেন—ইংরেজী বুঝিয়াছিলেন বলিয়া নয়, টেবিলে কিল মারার দরুন ভাবিলেন, সাহেব যে কারণেই হোক চটিয়াছেন । হেডমাস্টার ভ্র কুঞ্চিত করিয়। বলিলেন, ওয়েল ? * জ্যোতিবিনোদ পুনরায় হাত জোড় করিয়া বলিলেন, আমায় মাপ করুন এবার। —আচ্ছা, যাও এবার, ও-রকম আর না হয়, তা হলে মাপ হবে না। জ্যোতিবিনোদ সাহেবকে নমস্কার করিয়া আপিস হইতে নিক্ষাপ্ত হইলেন। কিন্তু ব্যাপারট। অত সহজে মিটিল না। স্কুল বসিবার পর মি: আলম শুনিয়া হেডমাস্টারকে বুঝাইলেন, এরকম করিলেএ স্কুলেডিসিপ্লিন রাখা বাইবে না-মাস্টাররা স্বভাবতই ফাকিবাজ