পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रनाथांद्ग१ ২৯৩ শিখচে, এ শিখে তো কেরানী হবে ? তার চেয়ে ভাল কাজ ওখানে শিখতে পারবে । বিলেত থেকে লোক গিয়ে আমেরিকায় বাস করে আমেরিকা যুক্তরাজ্য স্থাপন করেছিল। অজানায় পাড়ি না দিলে মানুষ, মানুষ হয়ে ওঠে না। জীবন উপভোগই যদি না করলুম, বেঁচে থেকে কি হবে ? গ্রামের লোকদের কাছে দুটো ভাল কথা বলবো । নাইট স্কুল করবো । বই পড়তে শেখাবো । এ আমার অনেক দিনের ইচ্ছা । স্বামী-স্ত্রীতে মিলে সারা বিকেল আর রাত ধরে পরামর্শ হোল। শ্রামলীর চোখে রঙীন স্বপ্ন ভেসে উঠেচে–দূরের-পাখী-ডাকা ফুল-ফোটা স্বমুখ জ্যোৎস্ন রাত্রির প্রহরগুলি । কত অলস মধ্যাহ্নে বনানীকোলে ঘুঘুর ডাক শূেনা—বিছানায় আধ-জাগরিত আধ-ঘুমন্ত অবস্থায় শুয়ে শুয়ে ! কত আম্রমুকুলের গন্ধে স্ববাসিত সকাল-সন্ধা । দিন পনেরো পরে । যদুবাবুর সঙ্গে একটি প্রৌঢ় ভদ্রলোক স্যামলীদের বাসায় ঢুকলেন । যদুবাবু বললেন, উনি এখানে খাবেন । স্যামলীকে আড়ালে বললেন —উনি ওদের স্টেটের নায়েব, ওঁরও নাম যদুবাবু। তবে উনি কায়স্থ । আমাকে বলে কয়ে উনিই বাড়ী দেওয়াচ্ছেন। অতি ভদ্রলোক। একটু ভাল করে খাওয়াও দাওয়াও । সাড়ে তিনের মধ্যে হয়ে যাবে, আর সেই সঙ্গে জমিদারের খাস কিছু রোয় ধানের জমি আছে, সেটাও ওই সঙ্গে হয়ে যাবে। আহারাদির পরে ভদ্রলোক অনেকক্ষণ কি পরামর্শ করলেন যদুবাবুর সঙ্গে । তারপর চা খেয়ে বিদায় নিলেন। এর তিনদিন পরে খামলীকে যদুবাবু বললেন, বাড়ী রেজেক্ট্রি করা হয়ে গিয়েচে । আষাঢ় মাসের শেষের দিকে জিনিসপত্র গুছিয়ে শু্যামলীরা তাদের নতুন কেনা বাড়ীতে বাস করতে চললো। কলকাতার বাসা একেবারে উঠিয়ে দিলে না, কিছু কিছু জিনিসপত্র ঘরে রেখে ঘর চাবিবন্ধ করে গেল । রাণাঘাট থেকে ট্রেন বদলে ওরা বেলা দশটার সময় বনগা লাইনের গাংনাপুর স্টেশনে নামলো। আগে থেকে বন্দোবস্ত করার ফলে বল্লভপুর গ্রামের একখানা গরুর গাড়ী স্টেশনে উপস্থিত ছিল । o মাঠ ও বনজঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এ গ্রাম ও গ্রাম পেরিয়ে চললো গাড়ী । বেলা প্রায় তিনটের সময় সামনের একটা বাকড় বটগাছ দেখিয়ে গাড়োয়ান বললে—ওই বুদীপুরের বনবিবিতল দেখা যাচ্চে—ওর পরেই বল্লভপুর । খামলীর বুক ছলে উঠলো। কি জানি কেমন হবে এত আশা-হুখে কেনা বাড়ীট, কেমন হবে সেখানকার জীবনযাত্ৰা ! জানাকে ফেলে অজানাকে তো আঁকড়ানো হোল চোখ বুজে, এখন সেই অজানার প্রকৃতি কি, সেটা এখুনি তো বোঝা যাবে আর একটু পরেই। কি গিয়ে দেখবে যে সেখানে, কি জানি ? সৰ্ব্বস্ব খুইয়ে তার বিনিময়ে কেন ।