পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Wooto বিভূতি-রচনাবলী করচে। কাল আপনাকে ভাবলাম একবার ফোন করি । কটার সময় স্থবিধে হৰে ? ওর চেয়ে ভালো আর পাবেন ন-তবে বায়নার আগে রেজিষ্টি আপিসগুলো একবার সার্চ করতে হবে। সে আমি করিয়ে দেবে, আপনাকে কিছু করতে হবে না। চা ? এত বেলায়—আচ্ছ, তা— চিনি কম দিয়ে, হ্যা— কিংবা আসবে গলির জীবন মুখুয্যে, ওর ভাইপোর একটা চাকরীর জন্তে অনুরোধ করতে । fতনি যত বলেন, আজকাল তার হাতে কিছু করবার নেই, চাকরী কোথা থেকে করে দেবেন— ততই তাকে আরও চেপে ধরে। বাড়ীর ভেতরে যে থাকবেন, সেখানেও বিপদ কম নয়। গৃহিণীর নানা রকম তাগাদা-ভাগনী-জামাইয়ের বাড়ী তত্ত্ব না পাঠালে নয়, ওপরের ঘরের পাখাখানা মেরামত করে দাও—নানা ফইজৎ । তার চেয়ে এই বেশ আছেন । পাশের বেঞ্চিতে একজন বৃদ্ধ লোক নাক টিপে বসে জপ কিংবা প্রাণায়াম করছে। ওদিকের বেঞ্চিতে একটি যুবক বসে লেকের জলের দিকে চেয়ে রয়েচে । এত সকালে আর কোথাও কোনো লোক নেই। হ্যা, যা ভাবছিলেন। জীবনটা যেন কি রকম হয়ে গেল। রাতুলপুরের সেই দিনগুলি এই সকালবেলার রোদের মত স্বপ্নমাথা ছিল । এখন সে স্বপ্নের আবেশও স্মৃতি থেকে টেনে আনতে পারেন না । সেই রাতুলপুরের স্কুলের চটাওঠা দেওয়ালটা । নবীন নাপিত চাকর ঘণ্টা বাজাতো । তার জন্যে টিফিনের সময় বাজার থেকে নিমকি রসগোল্লা এনে দিত। নবীনের ছেলেটি মারা গেল টাইফয়েডে, ফ্রি পড়তো স্কুলের নিচের ক্লাসে। তার জন্যে একদিন স্কুল বন্ধ হোল। হেডমাস্টার ছিলেন গুরুচরণ সান্যাল । অনেক দিনের প্রবীণ শিক্ষক। র্তাকে বলতেন, আপনি হচ্চেন ইয়ংম্যান, কেশববাবু, এ সব স্কুলে আপনার পোষাবে না। এ সব কাজ কাদের জানেন, যাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। যেমন ধরুন আমাদের । এ বয়েসে কোথায় যাচ্চি বলুন ! বেরিয়েছিলেন রাতুলপুর স্কুল থেকে তার পরের বছরেই। ভবিষ্যতের সন্ধানে । ভবিষ্যৎ র্তীকে একেবারে প্রতারণা করে নি। অনেকের চেয়ে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেচে। কিন্তু আজ মনে হচ্চে, সব দিয়েও ভবিষ্যৎ তাকে যেন কিছুই দেয় নি। তার স্বপ্নকে কেড়ে নিয়েচে, আশাকে কেড়ে নিয়েচে, ফুরিয়ে গিয়েচেন তিনি, নিঃশেষে ফুরিয়ে গিয়েচেন । যে ভবিষ্যৎ আজি অতীত, তাতে তিনি জেতেন নি—ঠকেচেন । আজ র্তার বয়েস—থাক বয়েলের কথা । ওটা সব সময় মনে না করাই ভালো । বক্ষেসের কথা মনে না আনবার জন্যেই তিনি পার্কে বসা ছেড়ে দিয়েচেন । র্তার বাড়ীর কাছে একটা পার্ক আছে, ছোট পার্কটাতে লেক-পাড়ার পেন্সনপ্রাপ্ত জজ, সবজজ, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, বড় কেরানী প্রভৃতি বৃদ্ধের দল নিয়মিত ভাবে বেড়াতে আসে । এ-বেঞ্চিতে ও বেঞ্চিতে বসবে আর সামাজিক ও শারীরিক কথাবার্তা বলবে। অমুকের নাতনির বিয়ের কি হোল, অমুকের নাতনি, এবার ম্যাট্রিকে বৃত্তি পেয়েচে । মেয়ে ছেড়ে ওয়া নাতনিতে নেমেচে। নাতনি