পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাভাবিক স্নেহ জন্সিয়াছে তাহার মনে । তিনি ভাবিলেন, আহা, খাক, খেতে পায় না, এই তো স্কুলের সামান্য মাইনের চাকরি ; ভালবাসে খেতে, অথচ কী ছাই বা খায় ! মুখে বলিলেন, থাও আর একখানা টোস্ট। আমি দাম দেব। ওহে, বাবুকে একখানা টোস্ট দাও—এখানে । যদুবাবু হাসিয়া বলিলেন, নারাণদ। আমাদের শিবতুল্য লোক । তা দাও আর একখান, থেয়ে নিই। খাওয়া শেষ করিয়া সকলে বিড়ি বাহির করিলেন। যে সময়ের কথা থলিতেছি, তখন দেশলাই পয়সায় দুইটা ; তৎসত্ত্বেও কেহ দেশলাই রাখেন না পকেটে, দোকানীর নিকট হইতে চাহিয়া কাজ সারিলেন । - নারাণবাৰু বলিলেন, চল যাই, ছটা বাজে। যদুবাৰু বলিলেন, বাসায় আর যাওয়া হল না, এখন যাই গিয়ে শাকারিটোলা, চুকি ছাত্রের বাড়ী। - ক্ষেত্রবাবু বলিলেন, আমি যাব সেই ক্যানাল রোড, ইটিলি—আমার ছাত্রেরা আবার সেখানে উঠে গিয়েচে । নারাণবাবুও ছেলে পড়ান, তবে বেশী দূরে নয়, নিকটেই প্রমথ সরকারের লেনে, সরকারদের বাড়ীতেই। বাহিরের ঘরে বুড়া যোগীন সরকার বসিয়া আছেন, নারাণবাবুকে দেখিয়া বলিলেন, আস্থান, মাস্টারমশায় আহন। তামাক খান। বস্থন । —চুনি পান্না খেলে বাড়ী ফিরেচে ? —চুনি ফিরেচে, পান্নার দেখা নেই এখন ৪। হতচ্ছাড়া ছেলে মাঠে একবার গেলে তে। কাগুজ্ঞান থাকে না—বলই পিটছে, বলই পিটছে! দুটো নাতিই সমান। বহন, তামাক খান, আসচে। কিন্তু ছাত্রের না-আসিলে চলে না। নারাণবাবুকে দুইটা টুষ্টশানি সারিয়। আবার স্কুলে ফিরিতে হইবে, নিজের হাতে রান্নাবান্না করিতে হইবে, কিছুক্ষণসাহেবের সঙ্গে বসিয়া মোসাহেবী গল্পও করিতে হইবে। - এমন সময়ে চুনি আসিয়া ডাকিল, মাস্টারমশায়, আহন। চুনি তেরো বছরের বালক, স্কৃিস্থ ক্লাসে পড়ে। নারাপৰাৰু নিঃসস্তান, বিপত্নীক— ছেলেটিকে বড় স্নেহ করেন। চুনি দেখিতেও খুব স্বন্দর ছেলে, টকটকে ফরসা রঙ, লাৰণ্যমাখা মুখখানি, তবে স্বভাব বিশ্যে মধুর নয়। কথায় কথায় রাগ, স্নেহ-ভালবাসার ধার ধারে না—কেহ স্নেহ করিলে বোঝেও না, স্বতরাং প্রতিদানেরও ক্ষমতা নাই । বড়লোকের ছেলে, একটু গতিও বটে। नि নিজের পড়ার ঘরে আলিয়া বলিল, আজ একগাদ। অঙ্ক দিয়েছেন ক্ষেত্রবাৰু, আমার সব বলে দিতে হবে । —হবে, বার কর খাতা বই .