পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


O3& বিকৃতি-রচনাবলী ওরা জালে মালার বিলের ধারের বড় মাঠের ওপর দিয়ে। আজকাল সকালে ইস্কুল, সোদালিফুলের ঝাড় দোলে মাঠের মধ্যে, কত কি পাখী ডাকে, বড় বড খোলাওয়ালা গেড়িগুলো বিলের দিকে নামে মাঠের পথ বেয়ে, আশ ধানের জাওলা খায় লুকিয়ে ছাড়া গরুতে । ওরা পরামানিকদের বাগানের আম কুড়তে কুডতে চলে ভাসে মাঠ ও বাগানের মধ্যে দিয়ে, যদি সামনে বিপিন মাস্টারের বেতের ভয় না থাকতো ইতিহাসের ঘণ্টায়, তবে বড় মজাই কোতো । কিন্তু তা হবার নয়, এমন স্বন্দর পথযাত্রার শেষে অপেক্ষা করচে রুক্ষমূৰ্ত্তি বিপিন মাস্টার ও তার হাতের খেজুর ডালের বেত । একটি ছেলের নাম হারুণ, আর অপরটির নাম আবুল কাসেম । দুটি বেশ দেখতে, পাড়াগায়ের ছেলে, শান্ত চেহারা, অতি সরল, কলকাতা তো দূরের কথা, মহকুমার টাউন বনগাও কখনো দেখেনি। আবুলের হাতে অনেকগুলো পদ্মফুল, মাদলার বিল থেকে তুলেচে, ক্লাসের টেবিল সাজাবে, ফণি মাস্টার ফুল ভালোবাসেন, র্ত্যকে দিতে হবে । হারুণ বললে—এই আবুল, এচিড পাডবি ? —কোথাকার রে ? —চল না, রাস্তার গাছের। ও গাছ তো সরকারি, তুমিও পাড়তে পারে, আমিও পারি। —কি হবে এচিড ? বিপনে মাস্টারকে দিবি ? —তাই চল, যাবার সময়ে ওর বাড়ীতে দুখানা বড় দেখে দিয়ে যাই। মারের দায়ে বেঁচে যাওয়া যাবে এখন । বেত্রতীতি থেকে উদ্ধার পাওয়ার এ পথ ওদেরই আবিষ্কৃত । যেদিন ওরা এচিড় দেয়, সেদিন ইতিহাসের ঘণ্টায় ওদের দেখতে পান না যেন বিপিন মাস্টার । অন্য সবাইকে মারেন। ওরা গাছে উঠে দুখানা বড় এচিড় সংগ্রহ করলে। হারুণ উঠলো গাছে, আবুল রইল নীচে দাড়িয়ে । কোষ-ওয়ালা বড় এচিড় । ইতিহাসের পডা কারো হয় নি আজ। রাস্তার ধারে বিপিন মাস্টারের টিনের বাড়ীটা । বাইরে কেউ নেই। হারুণ ডাকলে—শুরি, স্যার— বিপিনের স্ত্রী ঘুমচোখে বাইরে আসতে আসতে বলছিলেন—আপদগুলো সকালবেলাই এসে— এমন সময় ওদের হাতের এ চড় দেখে থেমে গিয়ে মুখে হাসি এনে, গলার স্থর মোলায়েম করে বললেন–কিরে ? এচিড় ? কোথেকে আনলি ? ওরা এচিড় ফেলে চলে এলো। বিপিন মাস্টার ইস্কুলে গিয়েচেন ওদের আগে । আজ র্তারই প্রথম পিরিয়ডে ক্লাস। একটু দেরি করে ক্লাসে ঢুকলে আট জানা জরিমান কঃ তো বাধাধরা রুটিনের কাজ । ওজা ঢুকলে ক্লাসে হুক হুরু বক্ষে। বিপিন মাস্টার কত্ব স্বরে হেঁকে বললেন—এই যে ! হারুণ আর জাবুল—এদিকে এলো--- ki