পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ख्षनांथांब्र= е&ч রূপো কাকার আসল নাম রূপে বাঙাল, ও জাতে মুসলমান । আমাদের গায়ের চৌকিদারও ও । পিসিমার মুখে শুনেচি রূপে কাক নাকি সাজিমাটির নৌকাতে চড়ে ওর কুড়ি বাইশ বছর বয়সের সময় দক্ষিণ দেশ থেকে আমাদের গ্রামের ঘাটে নিরাশ্রয় অবস্থায় এসে নেমেছিল । কেন এসেছিল দেশ থেকে তা শুনি নি। সেই থেকে আমাদের গ্রামেই রয়ে গিয়েচে—বিদেশ থেকে এসেছিল বলে উপাধি বাঙাল-—এ উপাধিরই বা কারণ কি তা বলতে পারব না । রূপো কাকা আমাদের বাড়ীর কৃষাণগিরি করচে আজ বহুদিন। আমাদের ও জন্মাতে দেখেচে । কিন্তু সেটা আশ্চৰ্য্য কথা নয়, আশ্চর্য্যের কথা হচ্ছে এই যে, ও আমার বাবাকে নাকি কোলে করে মানুষ করেচে। অথচ রূপোকাকাকে দেখলে তেমন বুড়ো বলে মনে হয় না । আমারই ঠাকুরদাদা হরিরাম চক্ৰবৰ্ত্তী গাডু হাতে নদীর ধারে গিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন, সায়েবের ঘাটে কই মাছ কেনবার জন্যে। রূপে কাকা সাজিমাটির নৌকাতে বসে ছিল। ওর অবস্থা দেখে হরিরাম চক্ৰবৰ্ত্তী ওকে গ্রামে আশ্রয় দেন। সে সব অনেক দিনের কথা। রূপে কাকার বয়স এখন কত তা জানি না, মোটের উপর বুড়ে । ঠাকুরদাদা যখন মারা যান, বাবার তখন পচিশ বছর বয়েস। বাবাকে তিনি নায়েব পদে বহাল করে গেলেন জমিদার বাবুকে বলে কয়ে। সেই থেকে বাবা আছেন মরেলডাঙা কাছারীতে। আর বাড়ীতে বিষয়সম্পত্তি দেখা-শোনা, প্রজা, খাতকপত্র এ-সব দেখা-শুনো করার ভার ঐ সাড়ে তিন টাকা মাইনের কৃষাণ রূপো কাকার ওপর । আমাদের অবস্থা ভাল গ্রামের মধ্যে—এ কথা সবার মূখেতে শুনে এসেচি জ্ঞান হয়ে অবধি । বড় বড় চার-পাচটা ধানের গোলা । এক একটিতে অনেক ধান ধরে। কলাই মৃগ অজস্র । প্রজাপত্র সর্বদা আসচে খাজনা দিতে । এ সব দেখা-শুনা করে কে ? রূপো কাকা সব দেখা-শুনা করতো। আশ্চর্য্যের কথা, বাবা বিশ্বাস করে এই সামান্য মাইনের মূৰ্থ কৃষাণকে এত সব বিষয়-আশয় দেখবার ভার দিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন। বাবাকে সবাই ভীষণ ভয় করে চলতে ; মুখের ওপর কথা বলতে সাহস করতে না কেউ । কিন্তু রূপে কাকা বাবাকে বলতো—বলি, ও বাৰু, তুমি যে এসো বাড়ীতি ন মাস ছ মাস অন্তর, এতঙ বিষয় দেখে কে বল তো । আদায়-পত্তর ত এ বছর কিছু হলো নি। হাতীর পাঁচ পা দেখেচো নাকি ? এত বড় সংসারটা চুলবে কিলি ? বাবা ফু মাস অস্তর দু-তিন দিনের জন্ত বাড়ী আসেন। বাবার অনুপস্থিতিতে গোলার চাবি খুলে রূপে কাকা ধান পাড়তে, কলাই মুগ পাড়তে । খাতকদের কর্জ দিতো। নিজের দরকার হলে নিজেও নিতে । জামরা সব ছেলেমানুষ, কিছুই বুঝি নে । ঠাকুরমা প্রবীণ বটে, কিন্তু ভালমাহুৰ । বিবর-জাশয়ের কিছুই বুঝতেন না। আমাদের আছে সব, কিন্তু দেখে নেবার লোক নেই।