পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অসাধারণ o6 X নীরেন বাড়ী খুজিয়া বাহির করিল। বড় একখানা আটচালা ঘরের পাশে ছোট রান্নধর, সেখানে আলো জলিতেছিল । নীরেন উঠানে দাড়াইয়া ডাকিল—বাড়ীতে কে আছেন ? একটি বৃদ্ধ টেমি হাতে বাহিরে আসিয়া বলিলেন—কে ডাকে ? —আমি | —কে বাবা তুমি ? —আমাকে কি চিনতে পারবেন ? আমি আলিগড় থেকে আসচি । বুড়ী টেমিটা উচু করিয়া তুলিয়া ধরিয়া নরেনের মুখ দেখিবার চেষ্টা করিল। তাছার মুখে কৌতুহল ও সন্দিগ্ধতার রেখা। হাতের তালু চোখের উপর আড় করিয়া ধরিয়া আলো হইতে চোখ বাচাইবার ভঙ্গি করিয়া আরও দু-এক পা আগাইয়া আসিয়া বলিল— কে বাবা ? —আমার বাবার নাম wরাজকৃষ্ণ মুখুয্যে— বুড়ী আপন মনে বিড় বিড় করিয়া বলিল—রাজকেষ্ট ? রাজকেষ্ট ? —আমাদের পৈতৃক বাড়ী ছিল গড় মুকুন্দপুর—আমার ঠাকুরদাদার নাম vতারিণীচরণ মুখুয্যে —আমার মায়ের বাপের বাড়ী ছিল সামতাবেড়ে, মায়ের নাম ছিল অমিয়বালা— —ও! এখন বুঝলাম । তুমি আমার মেয়ের সইয়ের ছেলে ! —হঁ্যা দিদিমা । —এসো এসো ভাই! কত কালের কথা সব। তোমাদের মুখ দেখে মরবো এইটুকু বোধ হয় ছিল আদেষ্টে । আর সবাই ছেড়ে গিয়েচে বাবা, শুধু আমিই পড়ে আছি। —সইম কোথায় ? —সে তো আজকাল এখানে থাকে না । সে থাকে তার শ্বশুরবাড়ী, এই পাশের গা । —আমি তার সঙ্গেই দেখা করতে এসেচি । —আজ রাত্তিরে এখানে থাকে । কাল যেও এখন সকালে । এখান থেকে দু-কোশ । —এই যে বললেন পাশের গী ? —মধ্যে মাদারহাটির মাঠ আর জলা পড়ে যে ভাই । দু-কোশের বেশী ছাড়া কম হবে না | & নীরেন হাত পা ধুইয়া ঠাণ্ড হইয়া বসিল । এ যেন নতুন একটা জগতে সে আসিয়া পড়িয়াছে। এমন দেশে সে কখনো আসে নাই । যে দেশে তাহার জন্ম, সে দেশে এত বনজঙ্গল কেহ কল্পনা করিতে পারে না গ্রামের মধ্যে। নতুন ধরনের গাছপালা, অসংখ্য পাখীর কলকাকলী, বনফুলের মৃদ্ধ সৌরভ। বুড়ীর রান্না শেষ হইতে রাত দশটা বাজিল। কেবল সোদা সোদা মাটির গন্ধ বাহির হওক। লেপাপোছা মাটির ঘরের দাওয়ায় কলার পাতা পাতিয়া বুড়ী তাহাকে খাইতে দিল। রাঙা আউশ চালের ভাত, পেঁপের ভালনা, সোনা