পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেটি-প্যান্ট পরিয়া কোথায় যেন চাকুরি করিত, বাড়ীর গিীর জাছাড়িছিাড়ি মৰ্ম্মভেদী, কারা । টিফিনের অবকাশে এখানে পলিয়! দেখিয়। ক্ষেত্রবাবুর ও জ্যোতিৰ্ব্বিনোদ মহাশয়ের চোখে জল আসিয়াছিল। এই যে খুকীর বর আসিল, ইহারা জানেন, ষোল-সতেরো বছরের স্বন্দরী কিশোরী, বাড়ীর এই জানালাটিতে আনমনে বসিয়া পথের দিকে চাহিয়া থাকিত, আপন মনে চোখের জল ফেলিত। জ্যোতিবিনোদ মহাশয় এই ঘরেই থাকেন। তিনি বলেন, রাত্রে ছাদে মেয়েটি পায়চারি করিয়া বেড়াইও, এক-একবার কেহ কোন দিকে নাই দেখিয়া ছাদে উপুড় হইয়া প্ৰণাম করিয়া কী যেন মনে মনে মানত করিত। মেয়েটি যে অস্বধী, সকলেই বুঝিতেন —মেয়েটি বিবাহিতা, অথচ আজ এক বৎসরের মধ্যে তাহার স্বামীকে দেখা যায় নাই—কাজেই আন্দাজ করিয়াছিলেন, স্বামীর আদর্শনই মেয়েটির মনোদুঃখের কারণ। কী জাত, কী নাম, তাহ কেহই জানেন না ; অথচ এই অনাত্মীয়া, অঞ্জাতকুলশীল কিশোরীর দুঃখে প্রৌঢ় শিক্ষকদের মন সহানুভূতিতে ভরিয়া ছিল, যদিও অল্পবয়স্ক శా শিক্ষক ইহাদের অসাক্ষাতে কিশোরীকে লক্ষ্য করিয়া এমন সব কথা বলিত, যাহা শোভনতার সীমা অতিক্রম করে। মাঝে মাঝে জ্যোতির্বিনোদ মহাশয় বলিতেন, আহ, কাল রাত্রে খুকী বড় কেঁগেছে এক এক ছাদে। হেডপণ্ডিত বলিতেন, ভাই, বড় তো মুশকিল দেখছি ! কী হয়েছে ওর বরের ? কোথায় গেল? কেহই কিছু জানেন না, অথচ মেয়েটির মুখস্থঃথ তাহারা নিজের করিয়া লইয়াছেন। আজ ইহারা সত্যই খুশী—খুকীর বর আসিয়াছে। বিশেষ করিয়া হেডপণ্ডিত ও ক্ষেত্রবাৰু। হেণ্ডপণ্ডিতের মেয়ে রাধারাণী, প্রায় এই কিশোরীর সমবয়সী, আজ এক বৎসর হইল মারা গিয়াছে টাইফয়েড রোগে। মেয়েটির দিকে চাহিলেই নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে । বাপের অমন সেবা রাধারাণীর মত কেহ করিতে পারিত না। স্কুলের খাটুনির পরে বৈকালে বাড়ী ফিরিলে দেখিতেন, রাধা তাহার জন্য হাত-পাধোয়ার জল ঠিক করিয়া রাখিয়াছে, হাত-পা ধোয়া হইলেই একটু জলখাবার আনিয়া দিবে, পাখা লইয়া বাতাস করিবে, কাছে বলিয়া কত গল্প করিবে—ঠিক যেন পাকা গিল্পী। তাহার একমাত্র দোষ ছিল, বারোস্কাপ দেখিবার অত্যধিক নেশা। প্রায়ই বলিত, বাবা, আজ কিন্তু— —ন মা, এই সেদিন দেখলি, আজ আবার কী ! . —তুমি বাবা জান না। কীস্বল্পর ছবি হচ্ছে আমাদের এই চিত্রধাণীতে, সবাই দেখে এসে ভাল বলেছে বাবা ৷ —রোজ রোজ ছবি দেখতে গেলে চলে মা ? ক টাকা মাইনে পাট । —তা হোক বাবা, মোটে তো ন আনা পয়সা ! —ন আনান আনা-দেড় টাকা। তোর গর্ভধারিণী যাবে না 7 —ম কোথাও যেতে চায় না। তুমি আর আমি