পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


cई अब्रर्थी'कधी कe 8 ליל দুজনে বসলুম, বেশ চাদ উঠেচে। পরশু কল্যাণী, উমা ও বোমাকে নিয়ে ফুলডুংরি বেড়াতে গিয়ে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম । আজ মিঃ সিন্‌হা চিঠি লিখেচেন তার সঙ্গে সারেও বেড়াতে যাবার জন্তে । ৮ই তারিখে এখান থেকে চাইবাসা যাবে।—সেখান থেকে সারেও রওনা হবো । সারেও বিখ্যাত অরণ্য, প্রাকৃতিক দৃশ্বও অতি অপূৰ্ব্ব । সিংহভূমের বিখ্যাত বন । ওখানে বেড়াতে যাওয়ার স্থযোগ কি ছাড়তে আছে ? ঘাটশিলা থেকে বন ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে রাত ১১টার গাড়ীতে চাইবাসা রওনা হই । সঙ্গে রইল ওভারসিয়ার নসিরাম। বেশ শীত রাত্রে । সিনহা সারেগুী-বনের ভার পেয়েছিলেন এ মাসে । গোটা বনটা ঘুরে আসবেন, আমায় নিমন্ত্রণ করেচেন। তারই আহানে আসা। চাইবাসাতে স্থবোধবাবুর আপিসে বসে সকালে চা খেলুম ও অনেক গল্পগুজব হোল। কাল বেলা একটার সময় চাইবাসা থেকে রওনা হয়ে এলুম হাটগামারিয়ায় পরেশ সান্তালের ওখানে । তারপর বনপথে মোটর ছুটলো । টকৃটকে লাল মাটির পথ ও দুধারে ঘন জঙ্গল । আগে নোয়ামৃতী, পরে এলুম গুয়া। দুই জায়গাতেই টাটা ও আর একটি কোম্পানীর লৌহ সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েচে—লোহার পাহাড় কেটে লৌহ প্রস্তর টন টন গাড়ী বোঝাই করে নিয়ে চলেচে । গুয়াতে একটি বাঙালী ভদ্রলোকের বাড়ী চা পানান্তে আবার ঘনতর জঙ্গলের পথে এলুম কুমুডি বাংলোতে। নিবিড় বনের মধ্যে দিয়ে পথ, কারো নদী পার হয়ে অদ্ভুত বনশোভা—ফুটন্ত পিটুনিয়া ও বন্ত কাঞ্চনের প্রাচুর্য্যের মধ্যে সন্ধ্যায় গাড়ী কুম্ডি পৌছে গেল। ডাকবাংলোর কাছেই বনের ভেতর দিয়ে কোইন নদী কলকল শব্দে বয়ে চলেচে । আজ শুক্ল চতুর্দশী—কাল রাসপূর্ণিমা। জ্যোৎস্নারাত্রে আমরা পায়ে হেঁটে কোইন নদী পার হয়ে বনের মধ্যে কতদূর বেড়াতে গেলুম। লোকালয় নেই কোথাও-গুয়া ছাড়িয়ে বোল মাইল অবিচ্ছেদে অরণ্যপখ দিয়ে এসে বন বিভাগের এই বাংলো। বনের পথে বেড়াতে বেড়াতে দেখলুম সেই বিরাট অরণ্যের প্রাচীন বনম্পতি শ্রেণীর মধ্যে শুক্ল চতুর্দশীর জ্যোৎস্নার রূপ। জ্যোৎস্নাহ্মাত বিশাল অরণ্যানী যেন প্রাচীন ঋষির মত শাস্ত, সমাহিত । এক-একটা গাছ নাকি ১৫০/১৬০ বছরের। আমার প্রপিতামহের শৈশৰেও এ সব গাছ এমনিই ছিল। বন্ড ঠাণ্ড । শিশির পড়চে । কারো নদীর ধারে অনেকক্ষণ বলে তারপর বাংলোতে ফিরে এলুম। বস্ত হস্তীর ভরে বেশিক্ষণ জঙ্গলের মধ্যে বসতে সাহল হোল না।” অte বেলা ১২টার সময়ে মোটরে রওনা হয়ে মাইল চারেক গিয়ে এক বনের মধ্যে গাড়ী রেখে শশাংদা বুক আরোহণ শুরু করলাম। শশাংদী বুরু সারাগু অরণ্যের সৰ্ব্বোচ্চ পাহাড় —উচ্চতা ৩.৩৮ ফুট। প্রায় কালিম্পং-এর উচ্চতা । মোটর ছেড়ে ৫৬ জন লোক বনপথে পাহাড়ের গা কেটে বনবিভাগের তৈরি রাস্তা বেয়ে চলেচি। একদিকে শৈলগাত্রে নিবিড় অরণ্য, দুটি কর্ণা বনের মধ্যে কলধ্বনি করে নেমে চলেচে । বনের মধ্যে বস্ত কদলী-বৃক্ষ—