পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইে অরণ্য কথা কও 8 Yđ আমলকী পাড়িয়ে নিয়ে খেতে খেতে এলুম। বনের মধ্যে কামিনী ফুলের গাছ দেখলুম এক স্থানে । নীচে নেমে বনের মধ্যে দিয়ে প্রায় দেড় মাইল হেঁটে এসে আমাদের মােটরের কাছে এলুম। গুয়া রেল স্টেশন থেকে শশাংদাবুরু প্রায় ১৬ মাইল । এ অপূৰ্ব্ব বনশোভা যদি কেউ দেখতে যান তবে হেঁটে তাকে আসতে হবে এই ১৬ মাইল পথ । কোথাও কোনো লোকালয় নেই— শশাংদাবুরু মালভূমি বা তার আশপাশে কোথাও একখানা বন্তগ্রাম পৰ্যন্ত নেই। পথে যথেষ্ট বন্ত হস্তীর ভয় । আমরা মোটরে আসচি কুম্ডিতে শশাংদাবুরু থেকে নেমে—হঠাৎ ফরেস্ট গার্ড হো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বল্লে—হাতী ! হাতী ! আমরা সকলে চেয়ে দেখি উপত্যকার ওপারে শৈলসামুর বনে একটা লাল রংএর ধুলো মাখা হাতী বনের মধ্যে আমাদের দিকে পিছন ফিরে স্থির ভাবে দাড়িয়ে আছে । আমি কেবলই ভাবচি শশাংদাবুরুর ওপরে কেউ যদি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে বেশ হয়। আজ আবার রাসপূর্ণিমা। সন্ধ্যায় বাংলোর বারান্দাতে বসে চা খাচ্চি—পূর্ণচন্দ্র উঠলো বনের মাথায় । গোপালনগরের হাট করে বাড়ী ফিরচে পঞ্চা মাস্টার ওর গরুর গাড়ীতে । বাংলোটি চমৎকার স্থানে। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা, ঘন বন । পাশেই দিনরাত শুনচি কোইনা নদীর কুলুকুলু শব্দ বনের মধ্যে। জ্যোৎস্নারাত্রে নদীর ধারে একটা শালগাছের শুকনো গুড়ির ওপর গিয়ে বসলুম। আমি ও মিঃ সিন্‌হা । জল চকু চকু করচে জ্যোৎস্নায়। আজ ভগবানের বিরাটরূপ প্রত্যক্ষ করেচি শশাংদাবুরুর শৈলারণ্যে—তিনিই সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েচেন । প্রাচীন বনস্পতিতে র্তার গম্ভীর রূপ—আবার বন্য লুদাম, বন্য চিরেতার অতি স্বন্দর পুষ্পে তার কমনীয় রূপ। তিনি অব্যক্ত, অনন্ত । আমার মনে হয় সারেণ্ডা ভ্রমণের মন ছিল আমার বহু দিনের । তাই তিনিই দয়া করে যোগাযোগ ঘটালেন। এ এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা জীবনের সেই শৈলশীর্ষে রাঙা রোদ, ঘন বনে সেই চাড ডা ঝর্ণার জলপতন ধ্বনি, সেই প্রাচীন বনস্পতি-শ্রেণী, দূরে দূরে অগণ্য শৈলমালার সমারোহ—সেই মুগন্ধি বন্য কুষমরাজি—এ সব যদি আমি না দেখতুম মনের মধ্যে এর ছবি যদি না একে রাখতুম—তবে আমার জীবন ফাঁকা থেকে যেতো। হে বিশ্বশিল্পী, তোমাকে এই করুণার জন্য ধন্যবাদ । কি চমৎকার কমলালেবু কুমডি বনবিভাগের বাংলো-সংলগ্ন বাগানে। ফলভারে গাছ অবনত হওয়া বলে—সত্যিই তাই । চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। সকালে খেয়ে দেয়ে আমরা বনপথে থলকোবাদ রওনা হলুম। সারাগু অঞ্চলের বনের মধ্যে কোথাও ফাক নেই—৩৩০ বর্গ মাইল (ছয় লক্ষ একর ) ব্যাপী ছেদহীন নিবিড় অরণ্য। কোইন নদী পার হয়ে কিছুদূরে বড় বড় শাল গাছ দেখা গেল। পথে বনে সত্যিই চাপাফুলের গাছ দেখা গেল—ভেণ্ডলেডিয়া নয়, সত্যিই চাপা। কোলিবাদ নামক বন্ত গ্রামে একটি বনাস্তবৰ্ত্তা ক্ষুদ্র কুটিরে মিঃ সিন্‌হী ছিলেন ১৯২৬ সালে—যখন তিনি প্রথম বনবিভাগে চোকেন। আমরা