পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী والا في সেই কুটিরে গেলুম—বন এসে পৌঁছেচে ঘরের উঠানে। চারিধারে বন ও পাহাড়। মিঃ সিনহা বল্লেন—অদূরে বনে barking deer ডাকতো–কত শুনেছি। বিকেল ৪টার সময় থলকোবাদ বাংলোতে এসে গাড়ী থেকে নামদুম। জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘেরা একটি ক্ষুদ্র শৈলোপরি এই অতি সুন্দর বাংলোটি অবস্থিত । আমরা পাহাড়ের প্রান্তে বাংলোর কম্পাউণ্ডে বসে চা খাচ্চি, নিকটেই শৈলারণ্যে কর্কশ স্বরে একটা পাখী ডেকে উঠলো। বিজয় আরঙ্গালী বল্লে—ময়ূর। সে এই সারাও বিভাগে অনেকদিন আছে। তারপর একটা গম্ভীর শক শোনা গেল—মিঃ সিন্‌হা বল্পেন—সম্বর। আমি বাংলোর পিছনে একটা নিজম স্থানে গিয়ে খানিকটা বসলুম। পাথর বেরিয়ে আছে, শুকনো খটখটে জায়গা। অজস্র বনতুলসীর গাছ। সন্ধ্যার আগে আমরা থলকোবাদ গ্রাম ছাড়িয়ে বনের মধ্যে বেড়াতে গেলুম। আমি, রাসবিহারী গুপ্ত ও মিঃ সিনহা। ঘন বন, অন্ধকারে কি ঝি পোক। ডাকচে । ওঁর প্রথমটা যেতে চাননি হাতীর ভয়ে । সারেও অরণ্য বন্ত হস্তীতে পরিপূর্ণ। একজন কৰ্ম্মচারী বলছিল বাংলোর কম্পাউণ্ডে রোজ রাঞ্জে হাতী আসে। যেখানে সাইনবোর্ডটা আছে, সেখানে তিন দিন আগে হাতী এসে সাইনবোর্ডখানা উপড়ে ফেলেছিল খুটিমৃদ্ধ। আবার পোতা হয়েচে । বনের মধ্যে আমরা বসে আছি, সেই ঘন-অন্ধকারে ভরা বনভূমির কি রূপ! ভগবানকে প্রত্যক্ষ করা যায় এখানে, এই সময়ে। চাদ উঠলো একটু পরে দূরে বনের মাথায়। রাসবিহারীবাবু বল্পেন—আজ দেখচি পূর্ণিমা। আমিও লক্ষ্য করলুম পূর্ণচন্দ্রই বটে। যদিও ভেবেছিলুম কালই পূর্ণচন্দ্র উঠেছিল। দুটি লোক বনের মধ্যে গুড়ি পথ বেয়ে অন্ধকারে আসছিল—আমাদের দেখে ভয়ে থমকে দাড়ালো। কাছে এলে বল্প ম—কোথায় গিয়েছিলি ? তারা বল্লে-বাজারে। —কোথায় বাজার ? —বালজুড়ি । —কতদূর ? –পাচ ক্রোশ বাৰু। বোনাইয়ের মধ্যে। শুনলুম এই অরণ্যের দক্ষিণে কেউনঝর ও বোনাই স্টেট—পশ্চিমে গাংপুর । উড়িয়ার বনপৰ্ব্বত-সঙ্কুল দুটি রাজ্য। কি চমৎকার পূর্ণচন্দ্র উঠলো বনের ফাক দিয়ে। পেছন দিকে চেয়ে চেয়ে দেখচি বনের গাছের গায়ে জ্যোৎস্না পড়ে অদ্ভুত শোভা হয়েচে । এ বারাকপুরের বঁাশবন নয়—শ্বাপদসঙ্কুল বন্যগজ-আধুতি ময়ুর-নিনাদিত অরণ্যভূমি—লারাও। লিংভূমের সৰ্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ, নিবিড়তম ও ঘনতম অরণ্য। কয়েকটি গাড়োয়ান Bengal Timber oo-'র কাঠ বোঝাই করে থলকোবাদ গ্রামে সন্ধ্যাবেলায় গাছতলায় রেখে খাচ্চে। আমরা গিয়ে আলাপ করলুম। তাদের নাম বিরল, নীলা লব মাহাতে । বাড়ী জেরাইকেল ৷ দিন এক টাকা হিসাবে পায় গাড়ী-ভাড়া বাবদ । ঘন-জঙ্গলের পথে প্রত্যেক মাসে তিনবার আসে তাড়া বইতে। ছ'দিন করে থাকে ।