পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


{}öw बेिङ्कडि-ब्रक्रमांक्लौ একটা গাছের নীচে এর মুরগী বলি দেয় ও আতপ চাউল নৈবেদ্য হিসেবে দেয়। লিংঘোঙ্গ এদের পরম দেবতা—সূৰ্য্যদেব। আরও বিভিন্ন বোঙ্গ আছে-এক এক রোগের এক এক বোক্ষী। পামটা থেকে এলুম জেরাইকেলা । এখানে এক ছোকরার সঙ্গে আলাপ হোল Range জাপিলে। বাড়ী খুলনায়, এখন এখানেই দু-তিন বৎসর জঙ্গলে কাঠের ব্যবসা করে বাল করচে । ন্থেগু, আপিলে দেখা করতে এল—শুনলাম এখানে বেশ ম্যালেরিয়া । জেরাইকেলা থেকে রওনা হয়ে তিন মাইল যেতে গভীর অরণ্য শুরু হোল। একদিকে গভীর অরণ্যভরা নদীখাত, অন্যদিকে পাহাডের দেওয়াল । পোঙ্গ পর্য্যস্ত সমানই অরণ্য, এক্সপোর্ট নাক নামক বনবিভাগের কৰ্ম্মচারীর আবাসস্থানের কাছে দাড়িয়ে কথা বলচি, একজন লোককে ভুলি করে নিয়ে যাচ্চে, জঙ্গলে B, T, T. কোম্পানীর কাজ করছিল, ম্যালেরিয়া ধরেচে। জাবার জঙ্গল । পোঙ্গ এলুম বেলা আড়াইটাতেন আগে এখানে B. T. T. কোম্পানীয় আপিস ছিল, এখন কিছু নেই। পোঙ্গা থেকে মনোহরপুরের পথে রওনা হই—মিঃ সিন্‌হা ১৯২৪ সালের নভেম্বর মাসে বনবিভাগের শিক্ষানবীশী করতে এই পথে এক সাইকেলে জাসেন, অতি দুরারোহ ও জঙ্গলাকীর্ণ পথ—এর আগে বনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না তার। কি ভাবে একা এখানে এলেন, আজ তার মুখে শোনা পৰ্য্যস্ত এই পথ দেখবার বড় ইচ্ছা ছিল—এবার সে পথও দেখলুম এবং কোলবোংগা নামক গ্রামে যে কুটিরে তিনি রাত্রি কাটিয়েছিলেন, সেটাও দেখলুম। কুলির সন্ধ্যায় এখানে পৌছে আর তার জিনিস নিয়ে যেতে চাইল না। এখন সে কুটিরের অনেক পরিবর্তন হয়েচে, পূৰ্ব্বে আঠারো বছর আগে বন এখানে ঘনতর ছিল । কোলবোংগার প্রান্তে এক পাহাডের ওপর একটি ছোট্ট কুটিরে এক গোসাই জাতীয় কৃষক বাস করে । বৃদ্ধ গোসাই ধান ঝাড়চে পাহাড়ের ওপরে খামারে । সেখান থেকে স্বন্দর দৃপ্ত চারিদিকে এবং খুব উচু পর্বতমালা ও শিখরদেশ। সভ্যতার চিহ্ন কিছু কিছু দেখা গেল এর পরে, খিনডুং নামক স্থানে—এক্সপোর্ট নাকার আপিসের সামনে কয়েকটি বালক স্কুল থেকে আসচে। তাদের কাছে ডাকলুম, ওরা মনোহরপুর ইউ. পি. স্কুলে পড়ে, দু’মাইল দূরবর্তী কোলবোংগা গ্রাম থেকে মনোহরপুরে পড়তে बांग्रं । মনোহরপুর এলুম-দূর থেকে রেলের ধোয়া দেখে মনে আনন্দ হোল। কোইন নদী পায় হয়ে মনোহরপুর বাজারে এলাম-চায়ের দোকান, খাবারের দোকান—কি আশ্চৰ্য্য জিনিস যেন। চোখে চশমা ভদ্রলোক ছড়ি হাতে বেড়াচ্চে, এ যেন এক নতুন দৃগু আজ জাটন'দিনের জঙ্গলের গভীর নির্জনতার পরে । দোকান বলে জিনিস আছে দুনিয়ায়, সেখানে পয়ল দিলে তুমি সিগারেট, খাবার, চা কিনে খেতে পারে—ডাকঘর আছে, ইচ্ছামত চিঠি লিখে ফেলতে পারে, এ যেন নতুন অভিজ্ঞতা। মনোহরপুর বাংলো স্টেশনের কাছে একটি পাহাড়ের ওপরে। বেল পাঁচটায় সেখানে