পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


cई भग्नर्थj कुंधों कैe 88% তিনটে বেজেচে–‘আংকুয়া, ২৯ Falls মাথায় থাকুকু। ১৭৬৪ ফুট পৰ্ব্বতশিখর যেখানে বসে আছে, পাৰ্ব্বত্য ঝর্ণা সেই গভীর খাতের একেবারে প্রাস্তে । স্থলেমান কারকাট্রা বল্পে ম্যাপ দেখে—এ জায়গাট ১৭৬০ ফুট উচু। @ সেখানে বসে টিফিন বক্স, থেকে বার করে পুরী, কাটলেট, কলা ইত্যাদি খেলুম। ফরেস্ট গার্ড দুটি খড়কুটো জালিয়ে চা করলে। মহিষের দুধের মাখন জমে গিয়েচে শীতে, মাখন চা হোল । খেয়ে সেই বনের পথে আবার ফিরলুম। কি ভীষণ নিস্তব্ধ জনহীন wilderness । যে এসব না দেখেচে, তাকে এর গাম্ভীৰ্য্য কিছুই বোঝানো যাবে না । সারেও অরণ্যের অন্তরালে হাজারো সৌন্দর্যভূমি ছড়ানো—আমি আফ্রিকায় যেতে চেয়েছিলুম বন দেখতে! আবার সেই কাটাওয়ালা ফল—এদেশী নাম 'মিনডো জোটো, কাপড়ে জামায় লেগে ভারি হয়ে গেল। উঠচি, উঠচি—চড়াইয়ের দুর্গম পাৰ্ব্বত্যপথ । অতিকষ্টে চলেচি, ঘন ঘন ইপিাচ্চি। কক্‌ কক্‌ শব্দ করে বিচিত্র বর্ণের বন-মোরগ পালিয়ে গেলর্ণ খনিতে এলুম, বেলা পড়েচে, কি স্বন্দর সমতলের দৃপ্ত। অনাবৃত লৌহ প্রস্তরের শৈলগাত্রেরই বা কি ভীমদৰ্শন চেহারা। এক জায়গায় অনেকখানি কোয়ার্টজাইট পাথর বেরিয়ে আছে অনেক ওপরে—যেমন নিচের ঝর্ণার দুধারে অনেক জায়গায় অতি অদ্ভুতভাবে ছিল । Skip দিয়ে একটি তরুণী হো মেয়ে উঠে এল বেশ শাস্তভাবে । যারা কখনো skip-এ ওঠেনি তাদের মূৰ্ছা যাওয়ার কথা। আমরা নামচি, অনেকগুলি রাঙা ধুলিমাখা কুলি-মেয়ে কাছে দাড়িয়ে দেখচে, এঞ্জিনড্রাইভারকে বলচে–ঠায়ো, ঠারো । নামবার সময়ে ঢালুর দিকে চেয়ে ভয় করলে –যেন কোন নরকে নেমে চলেচি। যদি শেকল ছিড়ে যায়, তবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে হবে । ট্রেনে এলুম আংকুয়া জংশন—ট্রলিতে সেই অপূৰ্ব্ব বনপথে এলুম সবাই। বড্ড ঠাণ্ড বাতাস লাগচে সামনে থেকে ট্রলির বেগে, বনপুষ্পের স্ববাস বাতাসে, দুপাশে বনে বনে অজস্র দেবকাঞ্চন (bohinia purpuria) ফুল ফুটে । ধনেশ পাণী ডাকচে বনে । বাদিকে কোইনা নদীর ওপারে পর্বত-শীর্ষেও বনস্পতি-শীর্ষে রাঙা রোদ । সলাই বাংলো তিন মাইল, এখানে আমাদের মোটর আছে । ওই সামনে দুইয়া খনির শিখরদেশ দেখা যাচ্চে রাঙা দগদগে ঘার মত সবুজ শৈলগাত্রে— ঠিক সবুজ নয়, ধুসর শৈলগাত্রে। এ বনে যজ্ঞডুমুর ও শিমুল, আম ও পান্‌জন গাছ অনেক, আলোকলতা ও চটি জুতোর মত ফলবিশিষ্ট সেই গাছটাও যথেষ্ট । শেষোক্ত গাছটা আমাদের বারাকপুরের ভিটেতে अर्छ । মনেও পড়লো বারাকপুরের কথা–কুঠির মাঠে গীতের অপরাহ্ল নেমেচে, আলকুশীর লতা চুলচে বনে ঝোপে, ইন্দু রায় তার বাড়ীতে বসে ফণিকাকার সঙ্গে গল্প করচে,—বেশ দেখতে পাচ্চি । • সলাই থেকে তখনি মোটর ছাড়া হোল । স্থলেমান কারকাটাকে আমরা মোটরে