পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6छ् षङ्गं, कक्षं] क७ 8&Q স্বশীলবাবুর মোটরে স্টেশনে এলুম ভোর ছ’টাতে। হলুদপুকুর স্টেশনে নেমে এক মাড়োয়ারি দোকানে চা ও খাবার খেয়ে বারোজ সাহেবের মোটর লরির জন্তে অপেক্ষ করলুম। বারোজ সাহেবের লোক বল্লে—রাত্রে যা বৃষ্টি হয়েচে, ও রাস্তায় গাড়ী আসা মুশকিল। শোনা গেল দুবলাবেড়া এখান থেকে ষোল মাইল । দিনটি মেঘাচ্ছন্ন ও ঠাণ্ডা। হেঁটে বেরিয়ে পড়ি আমি ও মি: ভৰ্গ। কেমন কাকরের পথটি একে বেঁকে আমাদের সামনে দূর থেকে বহুদূরে স্বদূরে নীল শৈলমালা ও বনপ্রান্তরের দিকে চলে গিয়েচে । ঐ হোল রাই্যক্ষপুরের পথ—এ পথ চলে গেল বারিপদ হয়ে বালেশ্বর ও কটক । আমরা বনের দিকে অগ্রসর হচ্চি— ঐ শৈলমালার মধ্যে কোন এক অনাবৃত ছায়াভরা উপত্যকায় দুবলাবেড়া গ্রাম। সেখান থেকে ভ্যালেডিয়ম ore আসচে । প্রথমে পড়লো নড়সা নদী। পথের দুধারে কালো পাথরের পাহাড়, যেন পাথুরে কয়লার ভূপ, এসব পাহাড প্রায়ই অন্তর্বর, বৃক্ষলতাহীন—কচিৎ কোন পাহাড়ে এক-আধটা শিববৃক্ষ দণ্ডায়মান। হাড়িয়ালি বলে একটা গ্রামে এক বাড়ী থেকে শাকের আওয়াজ শুনে এক ছোকরাকে বল্লুম—এদের বাড়ীতে শাক বাজচে কেন ? ' —সত্যনারায়ণ পূজো হচ্চে। —কি জাত এরা ? —মহারাণী । —সে কি ? —জ্যোতিষ । —ব্রাহ্মণ ? --७झे । এদেশে ই বলতে জানে না, বলে—‘ওই । এ গ্রামের নিচেই হাড়িয়ালি বলে ক্ষুদ্র পাৰ্ব্বত্য নদী। হেঁটে পার হয়ে গেলুম । রাস্তা হঁটিতে কি আনন্দই হচ্চে সকাল বেলাটা। ধুধু করচে মুক্ত উচ্চাবচ ভূমিভাগ, যেন space-এর সমুদ্র, তার মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রাম, ছোট বড় কালো পাথরের পাহাড়, পলাশ, শিববৃক্ষ, মহুল ও আসান । শালগাছ বেশী চোখে পড়লো না। একস্থানে পথের ধারে বড় গাছের তলায় একটা চওড়া পাথরে বাংলা অক্ষরে লেখা আছে— মৃত্যু বাসেয়া সর্দার। সাং চাকড়ি, সন ১৯৪৯ । অর্থাৎ উক্ত গ্রামের প্রবাসের সর্দারকে অমর করবার চেষ্টা। এই গ্রাম পার হয়ে একটা পাৰ্ব্বত্য নদী-নদীর নাম লুপুং, কিছুদূরে এই নামের একটা গ্রাম। পথের ধারে আমের গাছ—এমন অদ্ভুত ধরনের বউল ধরেচে, আর তার কি ভরপুর স্ববাল! একটা চার আমগাছ দেখে মনে হোল গাছটাতে ফুল ধরেচে। নীটার ধারে এক বিশাল স্বপ্রাচীন অর্জন গাছের শাখা-প্রশাখার তলে আম্রমুকুলের গৌড়ের মধ্যে কিছুক্ষণ বলে রইলাম।