পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৫০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হে অরণ্য কথা কও ՅԵրՊ এই মহাজগৎ, সেই পরম রহস্যময় দেবতা আজ কেন শায়িত এই আমবাগানে ! সোদালি ফুল ঝরচে তার স্বকুমার লাবণ্য-মাখা মুখের ওপর, সে মুখ দেখে তখনি ভালবাসতে ইচ্ছা করে—বিশেষ করে যখন মনে হয় জগতে ক’জনই বা ওঁকে জানে বা ওঁকে ভালবালে বা ওঁর কথা ভাবে । উনি সব চেয়ে বেশি অবহেলিত জগতের মধ্যে । কচি কচি লতা দুলচে, একটু দূরে রঙিন প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে, সোদালি ফুলের ঝাড়ে ঝাড়ে, আবার নীল বনকলমি ফুলে ভৰ্ত্তি একটা লতা উঠেছে ষাড়াগাছের মাথায়, অকালে একটা শিমুলের শাখায় রাঙ রাঙা ফুল ফুটে আছে, টুকটুকে মাকালফল ঝুলচে, লেজ-ঝোলা হলদে পাখী বসে আছে, যে ফুল কেউ দেখে না ও কেউ আদর করে না, তেমন ফুল ফুটে আছে তার বনতলে, তাই দিয়ে রচিত হবে তার পত্ৰশয্যা । s প্রণাম, হে খেয়ালী দেবতা, প্রণাম | ছোট একটা লতা উঠেচে আমার রোঁয়াকের ঠেস্ দেওয়ালের পাশের নারিকেল গাছটা বেয়ে । আমার বাড়ীর ওদিকটাতে ঘন বনঝোপ । আগে যুগল কাকার ভিটে ছিল ওখানটাতে, ছেলেবেলায় তার কাছে আমি কিছুদিন অঙ্ক কষতাম, কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পরে তার ছেলেরা এ গ্রাম থেকে উঠে অন্যত্র বাস করচে, এখন সেখানে ঘন ছোট এড়াধি, গোয়ালে লতা, সোদালি গাধালে শাক, বনমৌরি ও আদাড়ে কাশের জঙ্গল। আমি ঠেস দেওয়ালটাতে বসে বসে লিখি । হঠাৎ দেখলাম একদিন নারকোল গাছের গ বেয়ে একটা লতা উঠেচে । ভালো করে চেয়ে দেখলাম, বুনো তিৎপল্লার লতা, যারা জানে না তারা বলে তেলাকুচে । কিন্তু তেলাকুচে লতা একটু অন্য রকমের । ফুলের গড়ন তো সম্পূর্ণ আলাদা। দিনে দিনে পাতাটি বেড়ে উঠে নারকোল গাছ বেয়ে ঠেলে উঠতে লাগলো। আমি অবাক হয়ে রোজ রোজ চেয়ে দেখি । ক্রমে তার ফুল হোল, যে ফুলের কুঁড়ি এ সব অঞ্চলের দুলে মেয়ের নাকে নোলক করে পরে। আমরাও বাল্যে পরেছি। ফুলের সময়টাতে রঙবেরঙের কত প্রজাপতির বাহার । স্বকুমার লতাগ্রভাগ নারকোলগুড়ি ছেড়ে এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে পড়ে দুলচে বাতাসে, তাদের গাটে গাটে সাদা সাদা ফুল আর ফুলে ফুলে হলদেডান নীলডানা প্রজাপতিকুলের মুক্তপক্ষ-সঞ্চরণ। এরা বনাস্তস্থলী একটি অপূৰ্ব্ব সৌন্দর্ঘ্যে মুখরিত করে রাখে সারা সকালবেলাটা । আমি লেখা ছেড়ে মাঝে মাঝে সেদিকে একদৃষ্টের চেয়ে থাকি । একদিন ওর ফলের জালি পড়লো। জালি পুষ্ট হয়ে তেলাকুচো আকারের ফলে পরিণত হোল। ক্রমে একদিন ফল পেকে টুকটুকে লাল দেখালো। ছোট্ট একটা দুর্গ-টুনটুনি পাখি এক শ্রাবণ অন্ধকারের মেঘমেদুর খামলতা ও অতলম্পর্শ শাস্তির মধ্যে দেখি ফলটার পাশের লতার ডগায় বসে মহা আনন্দে রাঙা ফলটি ভোজন করচে। কি অপূৰ্ব্ব আনন্দই না BBB BB BBB BBBB BBB BBS BBBB BB BBBB BB BBB u