পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—এর নাম কি মার্ক দেওয়া ! এ আনাড়ীর মার্ক দেওয়া। এই খাতায় তুমি ঘাট নম্বর কখনও পাও না—আমার হাতে চল্লিশের বেশী নম্বর উঠত না। নতুন টীচারের কাছে ছেলেরা অন্যভাবে ঘুরাইয়া বলিল, স্তার, আপনার হাতে বড় নম্বর ওঠে। —কেন রে ? —স্তার, ওই সতীশকে যাট দিয়েচেন, ও চল্লিশের বেশী পায় না। —কে বলেছে তোকে ? —মিঃ আলম বলে গেলেন স্যার । —কী বললেন ? —বললেন, এ আনাড়ীর মার্ক দেওয়া হয়েছে। নতুন টীচার তখনই গিয়া হেডমাস্টারের আপিসে মিঃ আলমকে খুঁজিয়া বাহির করিলেন। হেডমাস্টার নাই, ক্লাসে পড়াইতে গিয়াছেন। বলিলেন, আপনার সঙ্গে একটা কথা—এক মিনিট— —কী বলুন } —আপনি কি ফোর্থ ক্লাসে আমার থfতা দেখা সম্বন্ধে কিছু বলেছেন ? —কেন বলুন তো ? —না, তাই বলছি । ছেলেরা বলছিল, আপনি খাত। দেখে বলেছেন যে খাত। ভাল। দেখা হয় নি । —ধ্য। —তা—না—সে কথা ঠিক না—তবে দ্ব্য, একটু বেশী নম্বর বলেই আমার মনে হল কিনা— খুব ভাল কথা। আপনি অভিজ্ঞ টীচার, আমার ভূল ধরবার সম্পূর্ণ অধিকারী। আমায় দয়া করে যদি খাতা দেখাটা সম্বন্ধে একটু বলে-টলে দেন-আমার অনেক ভুল সংশোধন হতে পারে। আমরা আনাড়ী কিনা আবার এ বিষয়ে। আলমের মুখ লাল হইয়া উঠিল। বলিলেন, তা আমার যা মনে হয়েছে, তাই বলেছি। আপনার নম্বর দেওয়াটা একটু বেশী বলেই মনে হয়েছিল। আমি মোটেই তার প্রতিবাদ করছি না। আমি কেবল বলতে চাই ক্লাসে ছেলেদের সামনে মন্তব্য না করে আমাকে অgড়ালে ডেকে বললেই ভাল হত । স্বাধ্য কথা। এ কথার উপর কোন কথা চলে না। মিঃ আলমের চুপ করিয়া থাকা ভিন্ন গত্যন্তর ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে হেডমাস্টারকে এক পাইয়া মি: আলম সাতখানা করিয়া উfহার কাছে লাগাইলেন, নতুন টীচারকে খাতা দেখতে দেবেন না স্তার। —নতুন টীচারকে ? কেন, মি: আলম ? —উনি খাতা মনোযোগ ট্রিয়ে দেখেন না । —দেখেছিলে নাকি কোন খাত