পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলিলেন, বেশ হয়েছে অস্ত্যজটার। থোত মুখ ভেঁাতা করে দিয়েছে নতুন টচার। কী ওর মাম, রামেন্দুবাৰু বুঝি ? নারাণবাৰু সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উiহার একটা গুণ, পরের কথায় বড় একটা থাকেন না। বলিলেন, বাদ দাও ভায়া ও-কথা। যদুবাবু বলিলেন, বাদ দেব কেন ? আপনি তো দাদা, দেবতুল্য লোক। তা বলে দুই লোকও তো আছে পৃথিবীতে। তাদের শাস্তি হওয়াই ভাল। ক্ষেত্রবাবু বলিলেন, জানেন দাদা, একটা কথা বলি। ওই আলমটা সবার নামে হেডমাস্টারের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়—এ কথা আপনি অস্বীকার করতে পারেন । অমন হিংসুক লোক আর দুটি দেখি নি, এই আপনাকে বলে দিচ্চি। জ্যোতিবিনোদ নীচু ক্লাসের পণ্ডিত—বড় বড় ক্লাসে যাহারা পড়ান, তাহাজের সমীহ করিয়া চলেন, তিনি কাহারও বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা হইলে বিশেষ যোগ দেন না। তিনি বলেন, আমি চুনাপুটি আপনার সকলেই রুই-কাতলা—আমার কোন কথায় থাকা সাজে না। তিনিও আজ বলিলেন, একটা ভাল বলতে হয় রামেন্দুবাবুকে—তিনি ওই খাতা নিয়ে হেডমাস্টারের কাছে না গিয়ে মিঃ আলমের কাছে গিয়েছেন । ঘছবাৰু কাহারও ভাল দেখিতে পারেন না। তিনি বলিলেন, আরে, সেটা কিছু নয় হে ভায়া, হেডমাস্টারের কাছে যেতে সাহস কি হয় সবারই ? নারাণবাৰু বলিলেন, তা হয়। অতখানি যে করতে পারে, সাহেবের কাছে যাওয়ার সাহস তার খুবই আছে। লোকটি ভদ্রলোক। যদুবাবু বলিলেন, তবে একটু গুমুরে। যাক, সব গুণ মানুষের থাকে না। এ কাজট। করে যা শিক্ষা দিয়েছে আলমকে, ভারি খুশী হয়েছি—হা-হা, ซิ বল ক্ষেত্র-ভায়া ? ক্ষেত্রবাবু বলিলেন, স্পিরিট আছে ভদ্রলোকের। • —ডেকে নিয়ে এস না। ওই তে। ওদিকের ছাদে বসে থাকে একলাটি। টিফিনে টীচীরদের ঘরে কোনদিন তো আসে না । নারাণা বলিলেন, বসে বসে বই পড়ে লাইব্রেরি থেকে নিয়ে। সেদিন বঙ্কিমের বই পড়ছিল। পকেটে একদিন শেলির কবিতা ছিল। তেমির ওকে গুমুরে ভাব, ও তা নয়। কবি কিনা, একটু আনমনে ভাবতে ভালবাসে। —যাও না ক্ষেত্র-ভায়া, ডেকে নিয়ে এস না । —আমি পারব না দাদা। কিছু যদি বলে বসে । তার চেয়ে চলুন, আজ চায়ের দোকানের আড়ায় নিয়ে যাওয়া যাক ওকে। আলাপ-সালাপ করা যাক। - ছুটির পর গেটের বাহিরে মাস্টারের দল নতুন মাস্টারের জন্য অপেক্ষা করিতেছিলেন ; কারণ, এ ঘনিষ্ঠত হেডমাস্টার বা মি: আলমের চোখের আড়ালে হওয়াই ভাল। মিঃ আলম