পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমুকৰ্ত্তন পূজার দালান, তার একখানায় কাঠফুঠী রহিয়াছে। একটি ঘরে ভদ্রতা করিয়া আজিকার জন্য থাকিবার জায়গা দিয়াছে বটে, কিন্তু বেশীদিনের জন্য এ ব্যবস্থা সম্ভব নয়, কারণ অবনীর তিনটি বড় মেয়ে, ছুইটি ছেলে, স্ত্রী ও এক বিধবা দিদিকে লইয়া পাশের ওই একখানি মাত্র ঘরে কতদিন থাকিতে পারিবে ? দুই দিন গেল, এক সপ্তাহ গেল। গরমে বড় কষ্ট হয়—সেকেলে কোঠার ছোট ছোট জানালা, হাওয়া চলে না। অবনীদের সংসারে প্রথম দুই দিন এক হাড়িতেই খাওয়া চলিয়াছিল, তারপর যদুবাবুর আলাদা রান্না হয়। জিনিসপত্র সস্তা, এক সের করিয়া দুধ যোগান করা হইয়াছে—বেশ খাটি দুধ । ফছবাবুর স্ত্রী বলে, এমন দুধ, যাই বল, শহরে বেশী পয়সা দিলেও মিলবে না। কিন্তু দিন-পনেরো পরে থাকিবার বড় অসুবিধা হইতে লাগিল। অবনী একদিন ঘুরাইয়া কথাটা বলিয়াই ফেলিল। অর্থাৎ দেশতো দেখা হইয়াছে, এবার যাইবার কী ব্যবস্থা । ভাবখানা এই রকম। রাত্রে যদুবাৰু স্ত্রীকে নিম্নকণ্ঠে বলিলেন, অবনী তো বলছিল, আর কদিন আছ দাদা ? তা কী করি বল তো ? এই গরমে কলকাতায়— স্ত্রী বলিল, চল এখান থেকে বাপু । নানান অস্ববিধে। মন টেকে না । বাবা, যে জঙ্গল ! ঘরদোরগুলো ভাল না, ছাদ যেমন—একটা বিষ্টি হলেই জল পড়বে। আর ওরাও আর তেমন ভাল ব্যবহার করছে না। আজ ঘাটে বড়দিদি কাকে বলছিল—আমাদের বাড়ী তো আর শরিকের ভাগ নেই, যে যেখানে আছে হুটু করে এলেই তো হল না! এই রকম কী কথা ! আমাদের যাওয়াই ভাল । যে মশা, রাত্তিরে ঘুম হয় না মশায় ডাকে। যদুবাবুর তাহ ইচ্ছা নয়। স্ত্রীকে এবার শরিকের ঘাড়ে কিছুদিন চাপাইয়া যাইবেন, এই মতলব লইয়াই এখানে আসিয়াছেন। তিনি কিছু বলিলেন না। আর দুই-তিন দিন পরে যদুবাৰু ফিরিবেন মনস্থ করিলেন। . • অবনীকে বলিলেন, তোমার বউদিদি রইল এ মাসট, দিদির সঙ্গে শোবে । আমার কলকাতায় না গেলে নয়, আমি পরশু নাগাদ যাই। গ্রামের কপিালীপাড়া হইতে সিধু কাপালী আসিয়া বলিল, দাদাঠাকুর, এ গায়ে একটা পাঠশালা খুলে বস্থান। পচিশ-ত্রিশটা ছেলে দেব-চার আন আট আন করে রেট। আপনার বাড়ী বসে যা হয় । কলকাতা ছেড়েপদয়ে এখানেই থেকে যান না কেন ? যদুবাৰু হাসিয়া বলিলেন, কলকাতার স্কুলে পচাত্তর টাকা মাইনে পাই—সত্তর ছিল, ছেড়ে দেব বলে ভয় দেখিয়েছিলাম, অমনি সেক্রেটারি পাচ টাকা বাড়িয়েবললে—যদুবাৰু, আপনার মত টীচার আর কোথায় পাব, আপনি থাকুন। প্রাইভেট টুইশানিতে তাও ধরে পাই— পনেরো আর পচিশ সকালে—বিকেলে পনেরো আর কুড়ি। এই ছেড়ে আসব পাঠশালা খুলে চার আন আট আনা নিয়ে ছেলে-পড়াতে ? তুমি হাসালে সিদ্ধেশ্বর। - অবনী সেখানে উপস্থিত ছিল। যন্থদাদা ষে স্কুলে এত মাহিনা পান, এই সে প্রথম শুনিল।