পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী একরাশ বই ছড়াইয়া পড়িত—কী একাগ্র মনে পড়িত ! তাহাকে লইয়া মাস্টারদের কত জল্পনা-কল্পনা ! —আচ্ছা, ও কি স্কুলের ছাত্রী ? —কিন্তু ওর বয়স হিসেবে কলেজের বলেই মনে হয়। —খুব বড়লোক,—না ? —এমন আর কী ! ফ্ল্যাট নিয়ে তো থাকে। ওদের চাল খুব বেশী—পাশী জাতটার— —বিয়ে হয়েছে বলে মনে হয় ? এই রকম কত কথা ! সে তরুণী পাশা ছাত্রীটি বিবাহিতা হইলেই বা কাহার কী, না হইলেই বা তাহাতে মাস্টারদের কী লাভ ! তবু আলোচনা করিয়া স্থখ । অধিকাংশ মাস্টার এ স্কুলে বহুদিন ধরিয়া আছেন—দশ, তেরো, আঠারো, বিশ বছর। এই উচু তেতলার ছাদ হইতে চারি পাশের বাড়ীগুলিতে কত উত্থান পতন পরিবর্তন দেখিলেন। অনেকে বাড়ী যাইতে পান না পয়সার অভাবে, যেমন জ্যোতিৰ্ব্বিনোদ, কি নারাণবাৰু, কিংবা মেস্-পালিত শ্ৰীশবাবু-গৃহস্থবাড়ীর মা, বোন, মেয়ে, ইহাদের চলচ্চিত্র মাত্র এত উচু হইতে দেখিতে পান এবং দেখিয়া কখনও দীর্ঘনিশ্বাস ফেলেন নিজেদের নিঃসঙ্গ জীবনের কথা ভাবিয়া, কখনও আনন্দ পান, কখনও পরের দুঃখে দুঃখিত হন, উদ্বিগ্ন হন। এই চলিতেছে বহুদিন ধরিয়া। এ এক অদ্ভুত জীবনানুভূতি—দূর হইয়াও নিকট, পর হইয়াও আপন, অথচ যে দূর সে দূরই, যে পর সে পরই। অনেক কুত্ৰ ঘটনাও প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। ওই লাল বাড়ীটাতে নয় বৎসর আগে এক মেয়ে একটি ছেলের সঙ্গে পলাইয়া গিয়াছিল, এদিকের ওই বাড়ীটাতে প্রৌঢ়া গৃহিণীকে প্রত্যেকদিন—থাক, সে সব কথায় দরকার নাই। কত দুঃখের কাহিনীও এই সঙ্গে মনে পড়ে। ওই পুবদিকের হলদে দোতলা বাড়ীটাতে আজি প্রায় সাত-আট বছর আগে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আত্মহত্যা করে। এতদিন পরেও সে কথা টিফিনের ছুটির সময় মাঝে মাঝে উঠে। বেকার স্বামী, পরিবার প্রতিপালন করিতে না পারিয়া স্ত্রীর সঙ্গে মিলিয়া বেকার-জীবনের অবসান করে। সে সব দিনে ক্লার্কওয়েল সাহেব ছিল না। ছিলেন স্বধীর মজুমদার হেডমাস্টার। অন্থকূলবাবুর পরের কথা। হেডপণ্ডিত বলেন, অনেকদিন হয়ে গেল এ স্কুলে যদু ভায়া, কী বল ? সেই বউবাজার স্থল ভেঙে এখানে আমি—মনে পড়ে সে-কথা ? হেডমাস্টারের নাম কী ছিল ধেন—শশিপদ কী যেন ? আমার আজকাল ভূল হয়ে যায়, নাম মনে আনতে পারি নে। যদুবাৰু বলেন, শশিপদ রায় চৌধুরী। বউবাজার থেকে ভারপর রাণী ভবানীতে গিয়েছিলেন, মনে নেই ? —আমরা তো স্কুল ভেঙে গেলে চলে এলুম। শশীবাবুর আর কোন খোজ রাখি নে । এ স্কুলে তখন অহুকুলবাবু হেডমাস্টার। ও আমন লোক আর হয় না। আমাদের নারাণদাদা