পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী —দি কানিং ওল্ড ফক্স – —যদুবাবুর স্ত্র আজ তিন-চার মাস পড়ে আছেন জাতির বাড়ী, তাদের সেখান থেকে ন৷ আনলে নয়—তারা চিঠি লিখছেন কড়া কড়া ট্রেনভাড় খরচ চাই— সাহেব হাসিয়া বলিলেন, তোমার কাছে সবাই বলে, তোমাকে ধরেছে আমাকে বলতে । বুঝলাম। —ই], স্যার । —টীকা আমি যে করে হয় ম্যানেজ করব, তুমি যখন বলছ। তুমি নিজের জন্যে কিছু নেবে না ? —না স্যার । আমার দুটো টুইশানির টাকা পাব –একরকম করে চালিয়ে নেব এখন। এখনও তো কত মাস্টারকে কিছু দেওয়া হচ্ছে না। শুধু এই ক'জনের নিতান্ত জরুরী দরকার, তাই— —বেশ, কাল ওদের ব’লো, টাকা দিয়ে দেব যে করেই হোক। —আর একটা কথা স্যার, যদি জানুয়ারি মাসে সুবিধে হয়, জ্যোতির্বিবনোদের কিছু মাইনে বাড়িয়ে দিতে হবে। বড় গরীব। —কেন, ওকে আমরা যা দিই, ওর বিস্তাবুদ্ধির পক্ষে তা যথেষ্ট নয় কি ? —ন! স্যার । ওর প্রতি অবিচার করবেন না। গরীব বড়— —কিন্তু বড় ফাকিবাজ, ক্লাসে কিছু করে না । আরও দু-চার জন আছে ফাকিবাজ । তুমি ভাব, আমি তাদের চিনি নে ? স্কুলের অবস্থা ভাল না বলে কিছু বলি নে। আচ্ছ, তোমার কথা মনে রইল, জানুয়ারি মাসে বেশী ছেলে ভক্তি হলে থার্ড পণ্ডিতের কেস আমি বিবেচনা করব। নতুন টীচার বিদায় লইলেন। বহুবাৰু সত্যই বিপদে পড়িয়াছেন। গত গ্রীষ্মের ছুটিতে’ীকে সেই যে গ্রামে শরিকের বাড়ী রাখিয়া আসিয়াছিলেন, অর্থাভাবে তাহাকে আনিতে পারেন নাই। অবনী মুখুঙ্গেকে টাকা ধার দিবেন বলিয়াছিলেন, সে অন্ত তিন মাস ধরিয়া তাগাদার উপর তাগাদ দিয়া আসিয়াছে—নানা ছলছুতা, সত্য-মিথ্যা নানারূপ স্তোকবাক্যে তাহাকে কতদিন ঠেকাইয়া রাখিয়াছেন। যত্নবাবুর ীি লিখিল, তুমি অবনী ঠাকুরপোকে টাকা দিবার কথা নাকি বলিয়া গিয়াছিলে, সে একাফা নিজে, একাফা তাহার দিদি ও স্ত্রীর দ্বারা আমার গায়ের ছাল খুলিয়া ফেলিতেছে, তোমার কাছে টাকা ধারের স্বপারিশ করিতে। তুমি কোথা হইতে টাকা দিবে জানি না। তবে এমন বলিলেই বা কেন, তাহাও ভাবিয়া পাই না। যদি টাকা দিতে না পার, তবে আমাকে এখান হইতে সত্বর লইয়া যাইবে। ইহাদের খোটা ও গঞ্জনা আর আমার সঙ্ক