পাতা:বিরাজবৌ - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

oved পনার মাস। গত হইয়াছে। আগামী শারদীয়া পূজার আনন্দ-আভাষ জলে স্থলে আকাশে বাতাসে ভাসিয়া বেড়াইতেছে। অপরাহ্-বেলায় নীলাম্বর একখানা কম্বলের আসনের উপর স্থির হইয়া বসিয়া আছে। দেহ অত্যন্ত কৃশ, মুখ ঈষৎ পাণ্ডুর, মাথায় ছোট ছোট জটা, চোখে বৈরাগ্য ও বিশ্বব্যাপী করুণা। মহাভারতখানি বন্ধ করিয়া রাখিয়া বিধবা ভ্ৰাতৃজায়াকে সম্বোধন করিয়া বলিল, মা, পুটদের বোধ করি আজ আর আসা হ’ল না । শুভ্ৰ-বস্ত্র পরিহিতা নিরাভরণা ছোটবোঁ অনতিদূরে বসিয়া এতক্ষণ মহাভারত শুনিতেছিল, বেলার দিকে চাহিয়া বলিল, না বাবা, এখনও সময় আছে-আসতে পারে। দুৰ্দান্ত শ্বশুরের মৃত্যুতে পুটি এখন স্বাধীন। সে স্বামী ও দাস-দাসী সঙ্গে করিয়া আজ বাপের বাড়ী আসিতেছে এবং পূজার কয় দিন এখানেই থাকিবে বলিয়া খবর পাঠাইয়াছে। আজিও সে কোন সংবাদ জানে না । তাহার মাতৃসমা-বৌদিদি নাই-ছয়মাস পূর্বে সর্পাঘাতে ছোটদাদা মরিয়াছে, কোন কথাই সে জানে না । নীলাম্বর একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, না এলেই বোধ করি ছিল। ভাল, একসঙ্গে এতগুলো সে কি সইতে পায়ুবে মা ? প্রিয়তমা ছোটভগিনীকে স্মরণ করিয়া বহুদিন পরে আজ তাহার শুষ্ক চক্ষে জল দেখা দিল । যে রাত্ৰে পীতাম্বর সর্পদষ্ট হইয় তাহার দুই পা জড়াইয়া ধরিয়া বলিয়াছিল, আমার কোন ওষুধপত্র চাই না দাদা, শুধু তোমার পায়ের ধূলো আমার মাথায় মুখে দাও, এতে যদি না বঁচি ত আর বঁচিতেও চাইনে, বলিয়া সর্বপ্রকার বাড়-ফুক সজোরে প্রত্যাখ্যান কৃষ্ণু ক্ৰমাগত তাহার পায়ের নিচে মাথা ঘষিতেছিল এবং বিষের ili: