বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাতযাত্রী সন্ন্যাসীর চিঠি - ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫২
বিলাত-প্রবাসী

স্বরূপলাভের জন্য তাহা শুনে ভাল ভাল লােকেরা বলেছিল যে রূপের পূজাকে আর কখনও নিন্দা করিবে না।

রূপের দুইটি ভাব—মধুর ও মঙ্গল। মাধর্য্য ও কল্যাণের সমাবেশ স্বরূপের ভূমানন্দ। কিন্তু আমরা প্রবৃত্তি-পরায়ণ হইয়া মধুরকে মঙ্গলভাব হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখি ও ব্যবহার করি। যাহার আকর্ষণে মাদকতা জন্মে ইন্দ্রিয় বিলােড়িত হয়—তাহাই মাধুর্য্য। সম্ভোগের আবর্ত্তে মাধুর্য্যই জীবকে টানিয়া আনে। মঙ্গল কিংস্বরূপ। আত্মদানই মঙ্গল। পূর্ণতা যখন উপচিত হইয়া অপরকে ভরপূর করে বাসনাকে সমাহিত করে সম্ভোগের প্রমােদকে বিশুদ্ধানন্দে পরিণত করে তখনই শিব-স্বরূপের দর্শন হয়। সালঙ্কারা নবপরিণীতা বধূর চপলমাধুরী মুগ্ধ করে, প্রিয়জনকে অপর আত্মীয়-স্বজন হইতে বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু ভূষণ-বিরহিতা আলুলায়িতকেশ কল্যাণময়ী মাতা দান করিতেই ব্যস্ত― আত্মদান ভিন্ন অন্য কোন কার্য্য নাই। অল্পজলা স্রোতস্বতী কলকলরবে নাচিতে নাচিতে ধাবিত হয়—মধুরতা যেন দ্রবীভূত হইয়া প্রবাহিত। আর তুষার পরিপুষ্টা আপূর্য্যমাণা ভাগীরথী আত্মসলিলদানে কত শত প্রবাহকে পূর্ণ করিয়া মাতৃপদে বরণীয়া হইয়াছেন। অনেক ফল ফুল তরু লতা আছে বটে কিন্তু কদলীবৃক্ষ মঙ্গলের পরিচায়ক। কোন অনুষ্ঠানে স্নেহরূপা রম্ভা-তরুর অভাবে—তথায় শত সহস্র নবমল্লিকার সদ্ভাব থাকিলেও—মঙ্গলের যেন অধিষ্ঠান হয় না। কেন—কদলীবৃক্ষের ন্যায় আত্মদ আর কে আছে পূর্ণ―ভােজনপাত্র। সার—আহার সামগ্রী শল্ক―রজকের ব্যবহার্য্য। আর প্রাণবিসর্জ্জনসমন্বিত ফলদান দেখিলে বিস্ময়ে অভিভূত হইতে হয়।

যতদিন প্রবৃত্তি প্রবল থাকিবে ততদিন রূপের সাধন করিতেই হইবে। অনিত্য রূপকে নিত্যস্বরূপের প্রতিমা বলিয়া গ্রহণ না করিলে প্রবৃত্তি