বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাতযাত্রী সন্ন্যাসীর চিঠি - ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
বিলাত-প্রবাসী

লইয়াই ব্যস্ত। অশ্বত্থ বা কদলী বা বিল্বতরুর কোন সম্মান নাই। প্রকৃতি কেবল সম্ভোগের বিষয় হইয়াছে। তাহার মঙ্গলময় রূপ তিরস্কৃত হইয়াছে। আর এদেশে সম্ভোগের ভাব অতিক্রম করিয়া প্রকৃতিতে মঙ্গলভাব দেখা সুকঠিন ব্যাপার। ছয় সাত মাস স্বভাব যেন একেবারে মৃতপ্রায়। তার পরে সৌন্দর্য্যে ফেটে পড়ে। এতদিন সংযমের পর যদি গোটাকতক দিন আমোদের সময় মাধুর্য্য সম্ভোগ না করা যায় তাহলে জীবন অসহনীয় হইয়া উঠিবে।

আমার রূপের পূজার ব্যাখ্যা শুনিয়া এক মস্ত অধ্যাপক-পাদরি আমায় লিখিয়াছেন যে রূপসাধনের তত্ত্ব অতি গম্ভীর ও মনোহর। এরা অনেকে মনে করেন যে যদি ইংরেজিশিক্ষার প্রভাবে এই হিন্দুভাব নষ্ট হইয়া যায় তাহা হইলে জগতের ঘোর অতিষ্ট হইবে।

হিন্দুর বর্ণাশ্রম ধর্ম্ম সম্বন্ধে আর একটি বক্তৃতা করি। আমি স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছি যে বর্ণধর্ম্মই হিন্দু জাতিকে চিরজীবী করিয়াছে। কত জাতি লোপ পাইয়াছে কিন্তু হিন্দু এখনও বর্ত্তমান। হিন্দু যেরূপ ঝড় তুফান বিপ্লব সহিয়াছে এরূপ দৃষ্টান্ত আর ইতিহাসে নাই। ইংরেজের একতা রাজনীতির উপর নির্ভর করে। আমি এদের বলিয়াছি যে আগে দেখাও যে রাজনৈতিক একতা এত ঝড় তুফান সহিতে পারে তবে আমাদের শিক্ষকতা করিতে আসিও। মিছামিছি বর্ণধর্ম্মের নিন্দা করিও না।

আর বক্তৃতার ফল এই হয়েছে যে জন কয়েক অধ্যাপক এক কমিটি করিতে প্রস্তুত হইয়াছেন —যাহাতে অক্ষফোর্ডে হিন্দু দর্শনের শিক্ষা হয়। এই সদুদ্দেশ্যের সফলতা অর্থের উপর নির্ভর করে। তাই বিধাতার মুখপানে চেয়ে চুপ করে আছি।

পাশ্চাত্য সভ্যতার হাবভাব যত বুঝিতেছি তত আমাদের দেশের