পিঠেও তেমনি অনুকরণ করা হইয়াছে। এরূপ কিন্তু আর কোথাও দেখি নাই। তবে এডিনবরাতেও এইরূপ ঘোড়ার সাজ। এত দূরে দূরে দুটি স্থানে এরূপ বিষয়ে এরূপ মিল কি করিয়া হইল বুঝা যায় না। আমাদের দেশের অনেক স্থানের মত এখানকার গাড়োয়ানেরা যাত্রী লইয়া কাড়াকাড়ি করে। অবসর পাইলে তারা সবাই খবরের কাগজ পড়ে।
আমরা একখানি গাড়ী লইয়া মোটমাট বোঝাই করিয়া হোটেলের দিকে চলিলাম। সেই জেটি হইতে বাহির হইয়া সহরের রাস্তায় চাহিয়া দেখি, গাড়ী ঘোড়ার অন্ত নাই। এমন একটি প্রসিদ্ধ বন্দরে যে এত ভীড় হইবে, তা কিছুই আশ্চর্য্য নয়। গাড়ীগুলি যেরূপ স্তূপাকার মাল বোঝাই লইতেছে তা দেখিলে অবাক হইতে হয়। মালগুলি যেন স্তূপীকৃত এক একটি পাহাড়ের মত গাড়ীর উপর সঞ্চিত। ঘোড়াগুলি যেমন বলিষ্ঠ, মানুষগুলিও তেমনি বলবান। তাতে কেবল একজন মাত্র চালক—তার সহিস নাই। সেই একলা ঘোড়াকে তদ্বির করে, গাড়ী হাঁকায়, মাল বোঝাই করে ও নাবায়। এদেশের লোকের যোগ্যতা আমাদের তুলনায় এত বেশী যে, অতি গুরুতর কার্য্যের ভার তাহাদের উপর দিয়াও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকা যায়। সকলেই লেখাপড়া জানে ও দেশের নিয়ম ও খবরাখবরে সুশিক্ষিত বলিয়া—সকল কার্য্য সুন্দররূপে ব্যবস্থা করিয়া করিতে পারে। আর স্বাস্থ্য এত ভাল ও মন এত প্রফুল্ল বলিয়া কাজ করিয়া আলে না।
গাড়ীগুলি এত বড় ও মাল এত বেশী বলিয়া অনেকগুলি ঘোড়া জুতিয়া গাড়ী চালাইতে হয়। এমন কি, এক একখানি গাড়ীতে ছয় কি সাতটি ঘোড়া অবধি দেখিয়াছি। আমাদের দেশে যেমন ঘোড়া পাশাপাশি জুতে, তাদের দেশে সব সামনা-সামনী; তাতে যে কি সুবিধা হয় তা জানি না; তবে এইরূপ লম্বা ঘোড়ার সারটি দেখিতে বড় বিস্ময়কর মনে হয়। অত ভীড়েও রাস্তায় সব সুব্যবস্থা।