ফরাসী দেশের সব রাস্তাগুলিই অতিশয় প্রশস্ত, ভাল করিয়া বাঁধান, ও গাছ পালা দিয়া সাজান এবং দুধারে সুন্দর সুন্দর বড় বাড়ী ও দোকান দ্বারা শোভিত। রাস্তার মাঝ দিয়া দ্রুতগামী ট্রাম চলিয়াছে। সে সবগুলিই আমাদের দেশের ট্রামের মত বৈদ্যুতিক বলে চলে। কতকগুলির তার মাথার উপর দিয়া যায়—আর কতকগুলির মাটির নিচে দিয়া নীত। একটি লম্বমান যন্ত্র, তাতে ঠেকিয়া তাহা হইতে শক্তি লয়। চওড়া রাস্তার মাঝ দিয়া ফুটপথ—আমাদের দেশের মত দুই ধার দিয়া নহে। সে ফুটপথ বা পদব্রজে চলিবার পথগুলি সব বেড়াইবার স্থান। গাছপালা ও ফুলফলে ঢাকা। তলায় সুন্দর বেঞ্চী। তাতে বসিয়া শ্রান্ত পথিক ও বিলাসীজনেরা—আরাম করেন। সে অতি সুন্দর স্থান। আমাদের কলিকাতার রাস্তা দেখিয়া তাহার কিছুই বুঝা যায় না।
রাস্তার ধারে ধারে মাঝে মাঝে প্রশস্ত বাগান আছে—সে বাগানগুলি যে কি সুন্দর, তা বলা যায় না। সকল জিনিষই যেন হাত দিয়া গড়া। গাছগুলি ছাটা ছোটা, জমীটি কেওয়ারী করা। তাতে কিছুই বনের বন্য শোভা নাই। প্রকৃতির নিজ হাতের কিছুই রাখা হয় নাই। ফরাসী দেশের লোকেরা কৃত্রিম সৌন্দর্য্যের বড়ই পক্ষপাতী। তাহারা যেমন নিজের মনের মতন করিয়া দাড়ি ছাটেন ও গালে রং লাগান তেমনি গাছপালারও বেশব্যিাস করেন। প্রায় সব বাগানের গাছগুলিই কাটাছাটা ও খর্ব্বাকৃতি। আমাদের চোখে সে দৃশ্য বড় ভাল লাগে না। সে দৃশ্য ইংরাজ জাতিরও বড় প্রিয় নহে। তাঁহারাও আমাদের মত প্রকৃতির সহজ সৌন্দর্য্য বড়ই ভালবাসেন। লণ্ডনের আশে পাশে সব বন-বাদার বন্য ভাবেই রক্ষিত। প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যই সেখানকার লোকে ভালবাসে। “গোলডার্স গ্রীন” পাহাড়ের নিকট “স্পানিয়ার্ড” নামক ছোট ছোট কাঁটা গাছের ঝোপগুলিও সেইরূপ ভাবেই রক্ষিত আছে। তাঁরা তার ভিতরকার অপ্রশস্ত পথ দিয়া বেড়াইয়া অশেষ আনন্দ লাভ করেন।