কিন্তু ফরাসী দেশের সৌন্দর্য্যের আদর্শ অন্যরূপ অথচ ইউরোপের সকল জাতিই ফরাসীদের সৌন্দর্য্য আদর্শ করিয়া তাহারই অনুকরণ করেন।
এদেশের রাস্তাঘাট যেমন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরবাড়ীগুলিও তেমনি মাপা জোপা করে গাঁথা। সবগুলিই প্রায় একরূপ দেখিতে, একই ফ্যাসানে গড়া। তাতে সামঞ্জস্য হওয়ায় অতি সুন্দর দেখায়। দোকান ঘরগুলি অতি পরিপাটী। রাস্তার দিকের বড় বড় সব জানালাগুলি কেবল কাচ দিয়াই ঢাকা। তার ভিতরেই সব দোকানের ভাল ভাল জিনিষগুলি সুন্দরভাবে সাজান থাকে। বাহির হইতে সবই দেখা যায়। ভাল ভাল দোকানে সব জিনিষগুলির দামও সঙ্গে সঙ্গে লেখা আছে। লণ্ডনে সকল দোকানেই দাম লেখা পদ্ধতি, এখানে সর্ব্বত্র তা নাই। তবে ভাল ভাল দোকানে জিনিষ কিনিতে কিছুই দেরী হয় না—ও কোনরূপ দর দস্তুরও করিতে হয় না।
এদেশে ফুলের এমন আদর যে, রাস্তায় রাস্তায় ফুলের দোকান ও ফুলের ফেরী হয়। বালিকারাই ফুল বেচেন। আর কেহও ফুল বেচিলে অমন শোভা হয় না। জল সেচন করা তাজা তাজা ফুলগুলি কেমন সুব্যবস্থায় সাজান। কত রকমই বা তার রং, কত রকমই বা আকৃতি। আর কোনও কোনও ফুল একেবারে সুগন্ধে ভরা। সতেজ কেশরগুলি সব প্রাণের আকুলতা লইয়া জাগিয়া আছে। আর ছিন্ন হইলেও, সমান আগ্রহে মধুকর আসিয়া তাদের মুখে মুখ দিয়া আদর করে।
এই সব দেশে স্ত্রীলোকেরাই বেচা কেনা করেন। সেখানে তাঁহারা পুরুষ মানুষের মতই স্বাধীন অথচ—পুরুষেরাও তাঁহাদিগকে যথেষ্ট সম্মান ও আদর যত্ন করেন। কাজ কর্ম্ম তো সকলেরই করা চাই। তাই তাহাদের হাতেই এইরূপ অল্প আয়াসসাধ্য দোকানে বসিয়া কাজ বেশ মানিয়াছে। ছেলের যত্নের মত জিনিষের যত্ন হয়। আর জিনিষ পছন্দ ও সাজানর সৌন্দর্য্য বিচার তাঁহাদেরই জাতিগত শক্তি, সেই কারণে