তাঁহারাই সব সভ্যদেশে এই কাজের উপযোগী হইয়াছেন। ছেলেপুলের বা সংসার পর্য্যবেক্ষণেরও তাতে কোন হানি হয় না। সময় মত সকল কাজ করিলেই সকল কাজ সুচারুরূপে করা যায়। ন্যাতা জোবড়া হইয়া এক কাজ লইয়াই সারাদিন বসিয়া থাকিলে কাজ ভাল হয় না।
এখানে নিম্ন শ্রেণীর রমণীরা সর্ব্বদা মাথায় টুপি দিয়া রাস্তা চলেন না। বিলাতে কিন্তু এই প্রথা সর্ব্বত্র। ইহাদের স্বাস্থ্য ও গঠন অতিশয় প্রশংসনীয়। মোটা মোটা গোল গোল হাত পা গুলি অনেকদূর অবধি খোলা। ঘাগরাটি ছোট, কামিজটির হাতকাটা, বিনানিটি মাথার ঊর্দ্ধদেশে বিন্যস্ত। সব সুন্দর। গলাটি অনেকটা নীচে অবধি দেখা যায়। চোখ কাল, চুল কাল, রং সাদা সাদা, আর সদা ব্যস্ত ভাব। দুষ্ট হাসির ভিতর এমন এক মধুর ভাব আছে যে, ইচ্ছা হয় দূর হইতে অনেকক্ষণ ধরিয়া দেখি।
পথে যাইতে যাইতে সমুদ্রধারের একটি অনুচ্চ পাহাড়ের উপর একটি কেল্লা দেখিলাম। “নেপোলিয়ন” যখন মার্সেলে আসিয়া থাকিতেন, তখন তিনি এই প্রাসাদটিতেই বাস করিতেন। এখন সে নেপোলিয়নও নাই, সে ফরাসীদেশও তেমন নাই। এখন এই স্থানে একটি হাসপাতাল হইয়াছে।
ফরাসীদেশের সকল গ্রাম ও নগরের অলিতে গলিতে ‘কাফে’ বা মদ্য পান করিবার আড্ডা। রাস্তার ধারের দোকানের বারান্দায় ছোট ছোট পরিপাটি টেবিল ও চেয়ার সাজান আছে। দুটি তিনটি লোকের এক টেবিলে বসিয়া গল্প করা চলে। আগন্তুকদের আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করিবার জন্য রমণীরাই নিযুক্ত। এই সকল স্থান অতিশয় জনতাময়। বিশেষতঃ দিনের কাজ শেষ হইলে সন্ধ্যাবেলা ভিড়ের সীমা নাই। সকলেই আড্ডা দিতে এইখানে খানিকক্ষণ কাটান। সেটি এমন আনন্দের স্থান যে, খানিকক্ষণ সেই স্থানে বসিলে মনের সকল দুশ্চিন্তা