চলিয়া যায়। সকলের সঙ্গে হাসির কথা কহিতে ইচ্ছা যায়। এমন কি, সবাইকার দেখাদেখি লাল লাল একটু সুধাও চুমুক দিতে মন চায়।
এই সকল স্থান হইতে খানিকদূর মাত্র গিয়া, আমরা আমাদের গন্তব্যস্থান Hotel de Continental “হোটেল ডি কণ্টিনেণ্টালে’, পৌঁছিলাম।
হোটেল কণ্টিনেণ্টালে পৌঁছাইলে পর একজন সুবেশী পুরুষ আসিয়া আমাদের অভ্যর্থনা করিয়া বসিবার ঘরে লইয়া গেল। মোট পত্রের ভাবনা আমাদের আর কিছুই ভাবিতে হইল না।
হোটেলটি একটি প্রশস্ত রাস্তার উপর অবস্থিত। চারিতলা বাড়ী ও ঘরদ্বারগুলি অতি পরিপাটীরূপ সুসজ্জিত। তার আশে পাশে মদ্যপান করিবার ও জুয়া খেলিবার “কাফে” ও একটি বৃহৎ থিয়েটার অবস্থিত। চারিপাশে রাস্তায় লোকে লোকারণ্য। অথচ কাচের দরজাগুলি বন্ধ করিয়া দিলে কিছুই গোলমাল নাই।
বসিবার ঘর নানারূপ আসবার ও ছবিতে সাজান। দেওয়ালে অনেকগুলি মানচিত্র আছে। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যাইবার পথ ও তাহার ভাড়ার কথা তাহাতেই লেখা আছে। Oriental Royal Mail নামক যে সব জাহাজ অষ্ট্রেলিয়া হইতে ডাক লইয়া কলম্বো হইয়া বিলাতে যায়, সেই জাহাজগুলি অতি বড় ও দ্রুতগামী। সেই জাহাজটিই ভারতবর্ষ হইতে বিলাত যাইবার পক্ষে সর্ব্বাপেক্ষা সস্তা। এমন কি তার তৃতীয় শ্রেণী অন্য জাহাজের দ্বিতীয় শ্রেণীর মত। তাহাতে ৫০০ টাকায় কলিকাতা হইতে বিলাতে যাওয়া আসা চলে।
টেবিলেও অনেক ভাষার অনেকগুলি বই ছিল, তার মধ্যে অধিকাংশই ভ্রমণবৃত্তান্ত। আমার এই বিষয় পড়িতে বড়ই ভাল লাগে। একখানি ফরাসী ভাষায় লিখিত ভ্রমণবৃত্তান্তের কথা কেবল ছবি দেখিয়াই কতকটা বুঝিয়া লইলাম। দেওয়ালে আরও অনেকগুলি সুন্দর সুন্দর ছবি ছিল। তার মধ্যে একটিতে শিশু কোলে কুমারী মেরী অবস্থিতা। তাঁর সরল মুখের