বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মার্সেল।
৯১

ভাবে মাতৃভাব কি সুন্দর চিত্রিত হইয়াছে! তার পাশের ছবিখানিতে কাঁটাগাছের মুকুট পরা খৃষ্টের প্রশান্ত মুখ, তার ভিতর হইতে এক অপূর্ব্ব জ্যোতিঃ চারিদিকে বিকীর্ণ হইতেছে। ইহারই পাশে ‘এণ্ডোমিডা’র নগ্ন মূর্ত্তি সমুদ্র ধারে পর্ব্বতগুহার নিকট শিকল দিয়া বাঁধা। ভীষণ বেগে তরঙ্গগুলি আসিয়া সেইস্থানে আঘাত করিতেছে। জলদস্যুর আহারের জন্যই সেই নিরীহ বালিকা সেই স্থানে উৎসর্গীকৃত হইয়াছিলেন। তিনি লজ্জায় অবনতমুখী ও ভয়ে কম্পমানা। দেখিতে দেখিতে জলদস্যু তাঁহার দিকে ধাবিত হইল। আর ঠিক সেই মুহূর্ত্তে এক উজ্জ্বল বীরমূর্ত্তি উপর হইতে নামিয়া দস্যুকে বধ করিয়া রমণীকে উদ্ধার করিলেন। এই ভাবের চিত্র।

 ঠিক সময়ে আমাদের আহারের জন্য ঘণ্টা বাজিল। ইতঃপূর্ব্বেই আমাদের মুখ হাত ধুইয়া পোষাক পরিয়া প্রস্তুত হইতে বলিবার জন্য আরও একবার ঘণ্টাধ্বনি হইয়াছিল।

 কতদিন ধরিয়া জাহাজের বাসি খাবার খাইয়া সে খাবারে অরুচি হইয়া গিয়াছিল। আজ এখানে ফরাসী দেশের সুন্দর মুখরোচক রান্না খাইয়া মুখ জুড়াইল। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা এখানে অতি পরিপাটী। রান্নাও নানারূপ, রকমারী ও সুস্বাদু। সমস্ত সভ্য জগৎ এই রান্নার অনুকরণ করে। ইংরেজী রান্নায় কখনও দুটি জিনিস একত্র মিশাইয়া রাঁধিবে না। আমাদের দেশের মত এখানে কিন্তু সেরূপ খুবই চলে। দুটী তিনটী জিনিস দিয়া একটী তরকারী। তাতে মসলা দেওয়া অথচ আমাদের দেশের মত বেশী নয়। শাক সবজি খুবই প্রচলিত। ভাতও পাওরা গেল। আলুভাজাও পাওয়া গেল। ইংরাজদের দেশে ভাজা নাই, সবই বিনা মসলায় সিদ্ধ করা, মসলা দিয়া খাইতে হয়। সব খাবারগুলিই মুখে সুমধুর লাগিল ও তৃপ্তির সহিত খাইলাম।

 এ সকল স্থানে এবং অন্যত্রও সেই সেই দেশের ও অন্যান্য বিষয়ের ছবি