ছাপা পোষ্টকার্ড পাওয়া যায়। সে গুলিতে নাম ও ঠিকানা লিখিয়া বন্ধুবান্ধবদের পাঠান যায়, তাতে সংবাদ দেওয়াও হইল, আর ছবি উপহার দেওয়াও হইল। যাঁহারা নানা দেশ বেড়াইয়াছেন এমন সব লোক এই প্রথার উপকারিতা বুঝেন। চার পয়সা করিয়া এক একখানি কার্ড ও চার পয়সা তার মাশুল, তা পৃথিবীর যে স্থানেই থাক না কেন।
আহারান্তে কিছুক্ষণ এইরূপ পোষ্টকার্ড ডাকে পাঠাইয়া খানিকক্ষণ বিশ্রাম করিতে লাগিলাম। এক রমণী পাশের ঘরে পিয়ানো বাজাইতে লাগিলেন। পরে গাইড আহার করিয়া আসিলে সবাই একত্রে পদব্রজে তার সঙ্গে দেশ দেখিতে বাহির হইলাম।
পথের বর্ণনা পূর্ব্বেই করিয়াছি। প্রশস্ত পথে জনতার সীমা নাই। দু’দিকে সুন্দর সুন্দর দোকান। স্থানে স্থানে ‘পার্ক’ বা সুন্দর সুন্দর বাগিচা। কোনও কোনও স্থানে অতি সুন্দর পাথরের ছবি আছে। তার মধ্যে অনেকগুলিই ফরাসী দেশের ঘটনাপূর্ণ ইতিহাসেরই ঘটনাবলী লইয়া কল্পিত। এক একটি পাথরের ছবি আমাদের কল্পনায় অতি সুমিষ্ট ভাবমাখা স্মৃতি আনিয়া দেয়। একটি ছবি অতি সুন্দর দেখিলাম। সেটি ফরাসী দেশের “সাধারণ তন্ত্রের” ছবি। জর্ম্মণীর সহিত ফ্রাঙ্কো-জর্ম্মণ যুদ্ধে হারিয়া যখন ফরাসীরা রাজাকে নির্ব্বাসিত করিয়া পুনরায় সাধারণ তন্ত্র স্থাপিত করিল সেই সম্বন্ধে ছবি। “সাধারণ তন্ত্র” অস্ত্র শস্ত্র হাতে করিয়া উচ্চ প্রস্তর স্তম্ভের উপর দাঁড়াইয়া আছেন। আর তার নীচে চারিদিকে অসংখ্য ছাত্রবৃন্দ সশস্ত্র হইয়া তাঁহাকে ঘেরিয়া আছে। এখানেও ছাত্রেরা রাজনৈতিক আন্দোলনে এত সংশ্লিষ্ট। ফরাসী জাতিকে পরাস্ত করিয়া জর্ম্মণী যখন ফরাসী সৈন্যের পশ্চাদ্ধাবন করিতেছিল, সেই সময়ে, দক্ষিণের এই স্থান অবধি আসিয়া তাহাদের গতিরোধ হয়। ছাত্রবৃন্দের প্রবল বিক্রমে ও ইটালীর রক্ষাকর্ত্তা সাধারণ তন্ত্রের পক্ষপাতী মহাপুরুষ ‘গারীবল্দীর’ সাহায্যে, জর্ম্মণ সৈন্যের পথ এই স্থানেই রুদ্ধ হইয়াছিল।