তাই এই প্রস্তরস্তম্ভটী গঠিত হইয়াছে। সেই স্তম্ভেরই চারিদিকে ঘেরা জমিতে সেই যুদ্ধে বিনষ্ট বীরদিগের সম্মানের জন্য অনেকগুলি “উইলো” তরু ও “ভায়োলেট” গাছ রক্ষিত আছে। উইলো গাছের পাতাগুলি সব নীচু, যেন শোকার্ত্তের বিনত মস্তকের মত। আর ঐ সুগন্ধযুক্ত ছোট ছোট ভায়োলেট ফুলের সরলতা ও পবিত্রতা ত সর্ব্বজনবিদিত।
এই স্থান হইতে কিছুদূর যাইলেই মার্সেলের প্রধান ব্যবসার স্থান “বার্স” “burse’দেখা যায়। সে স্থানটী এমন জনতার পরিপূর্ণ যে লোক ঠেলিয়া চলা যায় না, অথচ প্রায় সকলেরই ক্ষিপ্রগতি। সকলেরই মনে গম্ভীর চিন্তার ভাব। সম্মুখের এই অট্টালিকাতে টাকা কড়ি আদান প্রদান অনবরত চলিতেছে। কাহারও ভাগ্যচক্র নিমেষে তরঙ্গের উপর উঠিতেছে আবার কাহারও বা নিমেষে অতল জলে ডুবিয়া যাইতেছে।
এই স্থান হইতে আমরা খানিকদূর গিয়া “প্যানেডিলঙ্চেম্পে” পৌঁছিলাম। সেটি মার্সেলের একটি প্রসিদ্ধ চিত্র ও ভাস্করবিদ্যার আলয়। কত ভাল ভাল চিত্র ও মূর্ত্তি সেখানে রক্ষিত আছে। বড় বাড়ীটি অনেক তলা অবধি উঁচু, সামনেই অনেকগুলি প্রস্তরমূর্ত্তি সজ্জিত, ঠিক মধ্যস্থলেই মুকুটপরা বর্ষা হাতে সুন্দর একটি স্ত্রী-মূর্ত্তি। সেইটিই যেন ফরাসী দেশের স্বাধীন তন্ত্রের অধিদেবতা। তাঁর পাশেই দুই ধারে দুই স্ত্রী মূর্ত্তি কলাবিদ্যার প্রতিনিধি হইয়া দাঁড়াইয়া আছেন। তার পাশে অনেকগুলি দীর্ঘকায় মাংসপেশীবহুল পুরুষের মূর্ত্তি। মধ্যের ছবিটী ছাড়া সবগুলি উলঙ্গ। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি তাতে সুন্দর দেখা যাচ্ছে। সেই মূর্ত্তিগুলির সামনেই একটি কৃত্রিম জলপ্রপাত। অনেক উঁচু হইতে স্তরে স্তরে রাশিকৃত জল তুমুল বেগে শব্দায়মান হইয়া নীচে পড়িতেছে। বাড়ীটির চারিদিকে ঘাসবিশিষ্ট সব্জে মাঠ। তার উপর ঘাসের শিষের মাঝে মাঝে অনেকগুলি “ডেজী” ও “পান্সী” ও “মেরীগোল্ডফুল” ফুটে রয়েছে। এ মিউজিয়মটির কথা বর্ণনা করিতে গেলে অনেক সময় লাগিবে। তার