ভিতর অনেক সুন্দর সুন্দর প্রস্তর-মূর্ত্তি ও চিত্র আছে। সামনেই রাণী। ক্লিওপ্যাট্রার সর্পবিষে মুমূর্ষু দেহ। রাণী ক্লিওপ্যাট্রার কথা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। অন্য ছবি গুলির কথা স্থানান্তরে বলিব।
এই বাড়ীটির পাশের রাস্তা দিয়া যাইলে একটি সুন্দর বাগানে পৌঁছান যায়। তাতে নানা জাতীয় জীব জন্তু রক্ষিত আছে, সে স্থানটি অতি মনোহর স্থান। অনেক গুলি গাছপালায় ছায়াযুক্ত ও সুন্দর সুন্দর উঁচুপথ চারিদিকে চলিয়াছে। আশে পাশে ফুলগাছ, তাতে যথাসময়ে আপনিই কলে গাছগুলির তলায় জল দিতেছে। মধ্যে মধ্যে ছোট ছোট বিশ্রাম করিবার ও জলযোগ করিবার ঘর আছে। অনেক লোক গাছের তলায় বেড়াইতেছে, অথবা বসিয়া আরাম করিতেছে। ইহারা কখনও, কাজ না থাকিলে, ঘরের ভিতর বসিয়া থাকিতে পারে না। আর তাদের সে ঘরগুলিও, কাচের দরজা বন্ধ থাকিলে, এত ঘুপসি যে তাহাতে অনেকক্ষণ থাকিলে প্রাণ হাঁপাইয়া উঠে।
স্ত্রীলোকেরা বসিয়া হয় সেলাই করিতেছেন নয় নভেল পড়িতেছেন। পুরুষরা খবরের কাগজ পড়িতেছেন। কথাবার্ত্তা বড় একটা নাই। এ সব দেশে পাখী অতি কম। শুনিয়াছি লোকে পাখী মারিত বলিয়া সব পাখী ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। এখন এত দিন বাদে গুলি করিয়া পাখী মারা বারণ হইয়াছে। তবুও দুই একটি ছোট পাখী গাছের ছায়ায় থাকিয়া সুন্দরভাবে গান করে। এখন সবে বসন্তকাল আসিয়াছে, তাই কতকগুলি গাছের পাতা বিরল ও অপরগুলিতে ছোট চক্চকে নূতন পাতা গজাইতেছে।
একটি নব-বিবাহিত যুবা সৈনিক পুরুষ তার নববধূকে সঙ্গে লইয়া বেড়াইতে আসিয়াছিলেন, তাঁহাদের পরস্পরের সহিত স্বাধীন ব্যবহার দেখিয়া বড়ই চমৎকৃত হইলাম। রমণীর হস্ত হ’তে সুগন্ধমাখা ছোট রুমালখানি মাটীতে পড়ে গেল, তাহার প্রিয়জন তখনই তাহা সসম্ভ্রমে