কুড়ায়ে দিলেন। আবার তাঁর চলিতে চলিতে জুতার ফিতা খুলিয়া গেল, বীরপুরুষ হাঁটু পেতে বসে সে ফিতাটি সযত্নে বেঁধে দিলেন। কত মধুর স্বরে কত মধুর ভাবে হাত ধরাধরি করিয়া তাঁহারা কথাবার্ত্তা কহিতে লাগিলেন। ফরাসী ভাষা বলিয়া আমি কিছুই বুঝিলাম না। তবে অবশ্য হাব-ভাবে স্পষ্টই বুঝিতে পারিলাম, তাঁহারা যেন পরস্পরকে পাইয়া কৃতার্থ হইয়াছেন।
সে বাগানে উত্তর মেরু দেশ হইতে আনীত একটি সাদা ভালুক আছে (polar bear)। অমন শীতের দেশে যার বাস, সে এমন গরম দেশে কেমন করিয়া থাকিবে। তাই তার ঘরে চাঁই চাঁই বরফ দিয়ে ঠাণ্ডা করা। আবার গরম দেশের ফেজেণ্ট পাখীও সেখানে দেখিলাম। তারা এত কৃশ হয় নাই। সুন্দর রঙ্গের কালো কালো পাখাগুলি ও তাদের লম্বা ন্যাজ এখনও বেশ সতেজ রয়েছে। তার পাশেই একটি ময়ূর ময়ূরীকে দেখে পেকম ধরে নৃত্য কর্চে। ময়ূরীর পুচ্ছ নাই। তার গলার স্বর ময়ুরের স্বর অপেক্ষাও কর্কশ। তার শরীরে কোনরূপ আকর্ষণই দেখি না। তবুও তার ময়ূরের ডাকে অমনোযোগ। তার পাশে আর একটি ঘরে একটি ধূর্ত্ত শেয়াল। ধূর্ত লোকের মত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমাদের দিকে চাচ্ছিল। ইংরাজরা যাকে “জেকল” বলে ফরাসীরা তাকে বলে “সেকল”। ফরাসী ভাষার সকল কথাই অমনি মিষ্ট।
এখান হইতে কিছু জলযোগ করিয়া আমরা নিকটবর্ত্তী একটি স্থানে পাহাড়ের উপর একটি ধর্ম্মমন্দির দেখিতে চলিলাম। পাথরে বাঁধান পথটি ক্রমশঃ ঢালু হইয়া উচ্চে উঠিয়াছে। পাথরে বাঁধান সরু গলির ভিতর দিয়া ভারী ভারী ঘোড়ার গাড়ী বিকট শব্দে প্রতিধ্বনিত হইয়া ছুটিতেছে। আশে পাশে ছুতর কামার ও অন্যান্য বিষয়ের ছোট ছোট দোকান। ধোপানীরা হাত গুটাইয়া টেবিলের উপর কাপড় ইস্ত্রী করিতেছে। মদ তৈয়ারী করিবার আড্ডায় সে স্থানটি পরিব্যাপ্ত। অনেকগুলি দীনহীন