ভিখারী ভিক্ষা করিতেছিল। একটী অতি গরীব স্ত্রীলোক দুটি ছেলে নিয়ে পথের ধারে বসে আছেন। অনাহারে তাঁর দেহ এত ক্ষীণ যে তাঁহার বক্ষস্থল হইতেও শিশুর জন্য স্তন্য দুগ্ধ শুখায়ে গেছে। তাই শিশুটিও বড় রোগা। তারই অপর ছেলেটি ৪ বছরের, সে টুপী পাতিয়া আমাদের কাছে ভিক্ষা করিতে আসিল। সকলেই কিছু কিছু দিলাম। দূর হইতে তার মার কৃতজ্ঞতামাখা মুখ দেখিতে গিয়া অনবধানে পিছু হাঁটিতে হাঁটিতে আমি পড়িয়া গেলাম। সে দেশের সভ্য লোক উচ্চ হাসি হাসিয়া আমায় লজ্জা দিল না।
সে পাহাড়ে খানিক দূর উঠিয়া আর উঠা যায় না। তার উপর অংশ এত ঢালু যে কেহ টানিয়া না তুলিলে উঠা অসম্ভব। এইজন্য এই স্থানে একটি অতি বিস্ময়কর পাহাড়ে চড়িবার রেল আছে। প্রায় খাড়াভাবেই গাড়ীখানি মোটা তারের দ্বারা টানিয়া উঠান হয়। যখন একটি উঠে তখনই আর একটি নামে। তার ভাড়া প্রতি লোক পিছু এক ফ্র্যাঙ্ক বা দশ আনা।
ক্রমে ক্রমে উঠিবার সময় চারিদিকের দৃশ্য অতি মনোহর দেখায়। অল্পে অল্পে সহরের দৃশ্যপট চোখের সাম্নে জাগিয়া উঠিতে থাকে। সর্ব্বের উপরে উঠিলে সমস্ত সহরটী এক নিমেষে দেখা যায়।
সেখান হইতে নামিয়া আবার খানিকটা পাহাড়ে চড়িলে তবে সেই উপরকার মন্দিরে পৌঁছান যায়। সেটি রোমান কেথলিকদের ধর্ম্মমন্দির। সহরের সকল লোকের চাঁদা দিয়া নির্ম্মিত। মন্দিরের শিরোদেশে কুমারী মেরী শিশু যিশু খৃষ্টকে কোলে করিয়া বসিয়া আছেন। মূর্ত্তিগুলি সোণার রঙ্গে গড়া। রোমান কেথলিক ধর্ম্মে খৃষ্ট অপেক্ষাও মেরীর উচ্চ পদ। প্রোটেষ্টাণ্ট ধর্ম্মে তাহা কেহ স্বীকার করিতে চান না। কি সুন্দর কল্পনা! “Madona” নামে যে ‘মার কোলে শিশু” সম্বন্ধে চিত্র, সে চিত্র কত দেশে কত চিত্রকরই সযত্নে লিখিয়াছেন। ইউরোপের সকল চিত্রশালাতেই